জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ এ সিদ্ধান্তকে ‘দায়মুক্তির বিচার’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন না রাখার অভিযোগও করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত এক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন আন্দোলনসংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী আঞ্জুম শাহরিয়ার বলেন, তদন্ত শেষে ৪৩ জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোন তথ্য-প্রমাণ বা যুক্তির ভিত্তিতে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। এতে পুরো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, তদন্তে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের পরিচয় বিভিন্নভাবে প্রকাশ হয়ে গেছে। সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, তা উল্লেখ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাক্ষ্য প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের পরিচয় গোপন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশাসন এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি।
আরেক শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্রশাসনের বাইরে অন্য কারও উপস্থিতি ছিল না। তাই সাক্ষীদের তথ্য প্রশাসনের অভ্যন্তর থেকেই ফাঁস হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সাক্ষীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাক্ষীদের পরিচয় ফাঁসের অভিযোগও প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


