তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারজাহানা রহমান ৭ সেপ্টেম্বর এক সভার নোটিশ ইস্যু করেন। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) জায়গা ও সম্পদের বিকল্প ব্যবহার এবং কর্মরতদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার বিষয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।
জায়গা ও সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের নাম করে বিএফডিসিকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতেই এই সভা ডাকা হয়েছে বলে অভিযোগ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের। বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমান এই ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, বেসরকারিকরণ হলে চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়ে কর্পোরেট স্বার্থ প্রাধান্য পাবে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুমা রহমান তানি, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেনসহ জনপ্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বেসরকারিকরণের বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন এফডিসির এমডি। তিনি বলেন, ‘বিএফডিসি বেসরকারিকরণের প্রশ্নই আসে না। এ নিয়ে মিটিংয়ে কোনো কথায় হয়নি। এধরনের চিন্তা-ভাবনাই নেই আমাদের।’
বিএফডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা অবসরে গেলে যে অর্থ পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেন না অনেকদিন ধরে। অনেকেই টাকা না পেয়ে মারা গিয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে মাসুমা রহমান তানি বলেন, ‘অথচ এ টাকা তাদের ন্যায্য পাওনা। আমরা এটা নিয়ে কথা বলেছি। এছাড়া এফডিসিতে অনেকের চাকরির বয়স ২৫ বছরের অধিক হয়েছে। এমন অনেকেই রয়েছেন যাদের পদের আসলে এ মুহূর্তে কোনো দরকার নেই। তাদের অনেকেই স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে চান। তাদেরকে যেন গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের ব্যবস্থা করা যায়, এ ব্যাপারে কথা হয়েছে।’
মিটিং এজেন্ডায় ‘সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের’ বিষয়টি ছিল। ‘এরকম কোনো আলাপই হওয়া উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করেন তানি।
যে কেউ সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী চাকরির বয়স ২৫ বছর হলে পূর্ণ পেনশন নিয়ে অবসরে যেতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, , যাদের ২৫ বছরের বেশি চাকরির বয়স এরকম কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা ৮৪ জন। তাদের মধ্যে ১২-১৩ জন চান স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে। এছাড়া এর আগে ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে গিয়েছেন, যাদের কেউই অবসরকালীন অর্থ বুঝে পাননি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু কর্পোরেশন তাই আমরা অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের মত মাসে মাসে পেনশন পাই না। তবে প্রভিডেন্ড ফান্ড, গ্র্যাচুইটিসহ অন্যান্য সুবিধা বাবদ এককালীন কিছু অর্থ পাই। যে ৬০ জনের কথা বললাম আগে অবসরে গিয়েছেন তাদের জন্য লাগবে ১৭ কোটি টাকা। আর নতুন করে যারা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে যেতে চাইবেন, তাদের আবেদনের পর বলতে পারবো কতজন সে প্রক্রিয়ায় যেতে চান, তাদের জন্য কত টাকা লাগবে।’
বিএফডির বর্তমানে তিনটি জায়গায় জমি রয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির মূল কেন্দ্রে জায়গা রয়েছে ৭ একর। এর মধ্যে ৯৪ কাঠায় নির্মিত হচ্ছে ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’। এছাড়া রাজধানীর ভাষানটেকে রয়েছে ৬০ কাঠা ও গাজীপুরের কবিরপুরে রয়েছে ১০৫ একর জায়গা।
নাম প্রকাশ করার শর্তে বিএফডিসির একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতাবাবদ প্রতি মাসে ৯০-৯৫ লাখ টাকা খরচ হয়। নানা কারণে বিএফডিসি ২০১০ এর পর থেকে লসে পড়ে। ২০১৫ থেকে পুরোপুরি সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ ধার করে চলতে হচ্ছে। প্রায় সময় ৩-৪ মাসের জন্য তাদের বেতন ভাতা আটকে যাচ্ছে। এখন যদি কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়া যায় তাহলে প্রতিষ্ঠানের মাসিক ব্যয় অনেক কমে আসবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’ ও ‘কবিরপুর ফিল্ম সিটি’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন হতে আরও ৪-৫ বছর লেগে যাবে। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলবে? যেহেতু তাদেরকে নিজস্ব অর্থে চলতে হয়। তাই ব্যয় সংকোচনের জন্য এসব উদ্যোগ।


