জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে আরেক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় অন্য এক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান, একাডেমিক কার্যক্রম এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাতে মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানি। তবে একই স্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আয়োজিত একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলমান থাকায় খেলা সম্প্রচার শুরু হতে বিলম্ব হয়।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাত পৌনে ১১টার দিকে খেলার সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ ঘোষণা দেন, দর্শকরা মঞ্চের সামনের স্থান খালি না করা পর্যন্ত খেলা পুনরায় চালু হবে না। এ সময় দ্রুত খেলা চালুর দাবি জানাতে গেলে সানির সঙ্গে কিরণের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে কিরণসহ কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন সানি। এমনকি তাকে শ্বাসরোধের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ইমন এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সাহানুর রহমান সানজুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আসাদুজ্জামান ইমনকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি সাহানুর রহমান সানজুর বিরুদ্ধে আবাসিক হলে অবস্থান, শ্রেণি কার্যক্রম এবং ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। মাহমুদুর রহমান কিরণের দাবি, অতিরিক্ত দর্শকের কারণে তৈরি বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, কিন্তু মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আসাদুজ্জামান ইমনও। তিনি বলেন, তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। এ বিষয়ে সাহানুর রহমান সানজুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার বিচার দাবিতে বুধবার রাত পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার সহপাঠী এবং আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার রাতে উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।


