শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। এ উপলক্ষ্যে সকাল থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) আয়োজন করা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। এ অভিযোগ উঠেছে অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অবমাননা করা হয়েছে। এছাড়া পুরো আয়োজন নানান বিশৃঙ্খলায় ভরপুর ছিল।
বিএফডিসির আয়োজনে উপস্থিত সাংবাদিক রঞ্জু সরকার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সকালে বিএফডিসির এমডি মাসুমা রহমান তানি কেক কাটার মাধ্যমে আয়োজনের উদ্বোধন করেন। এরপর র্যালী করেন পুরো এফডিসি জুড়ে। তখনই আমাদের নজরে আসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় রয়েছে। এত বড় আয়োজনে এ ধরনের ভুল সত্যিই দুঃখজনক।’
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় শুধু জাতীয় শোক দিবসগুলোতে। এছাড়া পতাকা অর্ধনমিত রাখা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষেরা।
চিত্রনায়ক ওমর সানী আরও কিছু বিষয়ে অভিযোগ এনেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসকে ঘিরে। তার অভিযোগ, এবারের আয়োজনে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং সিনিয়র শিল্পীরা অনুপস্থিত ছিলেন।
ওমর সানী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে অংশ নিতে তিনি সকালে এফডিসিতে যান। সেখানে নিজের অভিনীত কালজয়ী সিনেমা ‘চাঁদের আলো’র ব্যানার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
তিনি জানান, এমডির কক্ষে আলাপকালে হঠাৎ প্রযোজক ও নায়ক হেলাল খানের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন মানুষ সেখানে প্রবেশ করেন। একটি কেপিআই ভুক্ত জায়গায় এমন গণজমায়েত ও শোডাউনকে ‘বিদঘুটে’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেন সানী। যা দেখে সানী অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই খেলোয়াড় ও শিল্পীদের পেশাদার দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চলচ্চিত্র দিবসে এমন বিশৃঙ্খলা দেখলে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ‘মাইন্ড’ করবেন বলে সানী মন্তব্য করেন।
এফডিসির সামনের কাতারে প্রকৃত শিল্পীদের বদলে বহিরাগতদের ভিড় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিবা সানু বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বহিরাগতরা সামনের কাতার দখল করে রেখেছিল। প্রকৃত শিল্পীদের সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে বহিরাগতরা সেখানে ছবি তোলা এবং জাহির করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএফডিসির এমডি মাসুমা রহমান তানি। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পতাকার কোনো অবমাননা করা হয়নি। বাতাসের কারণে পতাকা একটু নিচে নেমে গিয়েছিল। তাদের নজরে আসার পরপরই তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।
বিশৃঙ্খলার ব্যাপারেও তার দাবি, যতটা বলা হচ্ছে ততটা বিশৃঙ্খলা হয়নি।


