বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ এনেছে জামায়াতে ইসলামী। শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভে এসব কথা বলা হয়।
আগের দিন শেরপুর-৩ এবং বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনে কারচুপি এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হয় শেরপু-৩ আসনের নির্বাচন। সেখানকার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনেও ভোট হয়।
কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট চলার মধ্যেই শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াত। ভোট শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলে জানানো হয়, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা জিতেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৬ ভোটে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০৪ ভোট।
১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। জামায়াতের আবিদুরের ভোট ছিল ৯৭ হাজার ৬২৬।
বায়তুল মোকাররমের বিক্ষোভে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনে নির্লজ্জভাবে কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, ব্যালটে সিল মারা এবং জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা করা হয়েছে এবং একজন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে।’
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে জানানোর পরও তারা সহিংসতা ও ‘ভোট ডাকাতি’ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
বিএনপির বিরুদ্ধে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে দ্বিচারিতার অভিযোগও আনেন জামায়াত নেতা। বলেন, ‘সরকার আগে গণভোট ও “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন তা বাতিলের চেষ্টা করছে।’
২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত আদেশ জারি হওয়ার কয়েক মাস কোনো আপত্তি না জানিয়ে এখন তা অস্বীকার করা ‘রাজনৈতিক অসততার’ শামিল বলেও মন্তব্য করেন পরওয়ার।
জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য হেলালউদ্দীন বলেন, ‘শেরপুর ও বগুড়ায় নির্বাচনের নামে “নির্লজ্জ কাণ্ড” ঘটানো হয়েছে। ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি ও ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ১৭ বছরে যা করেছে, এই ‘ফ্যাসিবাদ’ দুই মাসেই তাই করছে।’
সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ৯ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ অভিযান, প্রচারপত্র বিতরণ, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ, জাতীয় সেমিনার এবং জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি আবদুল মান্নান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


