বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটি দল ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কেউ মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হবেন না। চারদিক থেকে চেষ্টা হচ্ছে বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্য।’
শনিবার বিকালে গাজীপুরে আ স ম হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য আ স ম হান্নান শাহর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতিচারণ করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচিতেই সব সংস্কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একটি দল বলছে বিএনপি সংস্কার মানে না। বিএনপি সংস্কারের জন্মদাতা দল। জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগে ভয়াবহ অপশক্তি জনতার প্রতিরোধে পালিয়ে গেছে। হাসিনার শাসনামলে আমরা ঘরে ঘুমাতে পারতাম না, এক বিভীষিকাময় পরিবেশ ছিল। তার পলায়নের মাধ্যমে আমরা নতুন করে স্বাধীনতা পেয়েছি।’
নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘এ সরকার নিরপেক্ষ উপদেষ্টামণ্ডলী নিয়ে গঠিত হয়েছে। আমাদের চাওয়া ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তিনি সেটির জন্য কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করছেন, ব্যাংকের লুটপাট বন্ধ করেছেন।’
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। সাত মাস ধরে এসব কমিশনের বৈঠক চলছে এবং তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।
গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানই দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, ১৫ বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের বিজয়ের জন্য লড়াই করছি। জনগণের ভোটাধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য আমরা ত্যাগ স্বীকার কম করিনি। বেগম খালেদা জিয়া ছয় বছর কারাগারে ছিলেন, তারেক রহমান ১৮ বছর ধরে বিদেশে আছেন।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি শতভাগ নিরপেক্ষ থাকবেন। আপনার উপদেষ্টামণ্ডলীর কারও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। দেশের মানুষ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।’
আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় মানুষ খুশি হয়েছে। কারণ, এখন জনপ্রতিনিধিহীন দেশ আমলাদের হাতে চলছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ সুফল পাবে।’
তিনি বলেন, ‘হাসিনার সময়ে ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছিল, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, লাখ লাখ মানুষ নির্যাতিত হয়েছিল, ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছিল।’
‘এখন নির্বাচনী ট্রেন লাইনে উঠেছে। দলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামতে হবে’, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
ভারতের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু নয়। তারা সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে, পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না, নির্বাচনে চক্রান্ত করছে। বন্ধুত্ব হতে হবে সমান সমান।’
‘১৯৭১ সালে যারা দেশের বিরোধিতা করেছিল, তারা যেন ক্ষমতায় ফিরতে না পারে,’ বলেন তিনি।
আ স ম হান্নান শাহকে স্মরণ করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি জনগণ ও দলের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শেই তিনি রাজনীতি করতেন। চরম দুঃসময়ে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি ছিলেন অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন। এ সময় বক্তব্য দেন হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা এম এ কাইয়ুম, হুমায়ুন কবির খান, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মেয়র মজিবুর রহমান, ওমর ফারুক শাফিন, চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী ও মমতাজ উদ্দিন রেনু প্রমুখ।


