সেন্টমার্টিনে ধরা পড়ল ৬ হাজার কেজি লাল কোরাল

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়ল ৬ হাজার কেজি লাল কোরাল
জেলেদের জালে ধরা পড়া লাল কোরাল মাছ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সেন্টমার্টিনে জেলেদের জালে প্রায় ছয় হাজার কেজি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। সাগর থেকে এক জালে এ বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। মাছগুলো প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মাছ বোঝাই ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছায়।

জানা গেছে, টেকনাফ সদর কেরনতলী এলাকার মিজানের মালিকানাধীন একটি ট্রলার ও একটি নৌকা ২১ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গত সোমবার সকালে মাছ ধরার উদ্দেশে সমুদ্রে যায়। পরদিন দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে জেলেরা বড় একটি মাছের ঝাঁক দেখতে পান। পরে চারদিক থেকে জাল ফেললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল ধরা পড়ে।

জেলেরা জানিয়েছেন, ধরা পড়া মাছের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের বেশি এবং প্রতিটি মাছের ওজন আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত কেজি। সব মিলিয়ে মোট ওজন প্রায় ছয় হাজার কেজি বা দেড়শ মণ।

ফিশারি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. রশিদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় মাছগুলো কিনে নেন।

আরও পড়ুন

রশিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসা করছি। কিন্তু এক জালে এত লাল কোরাল ধরা পড়া সত্যিই বিরল ঘটনা। মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, আব্দুল্লাহপুরের কাঁচা মাছের আড়তে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মৌসুমের শেষ দিকে এ ধরনের বড় ঝাঁক ধরা পড়া বিরল হলেও এটি তাদের জন্য বড় অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সাগরে বড় আকারের লাল কোরাল মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য ইতিবাচক এবং এটি সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যের একটি ইঙ্গিত বহন করে। তবে সামুদ্রিক সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে মাছ ধরার বিষয়ে আমরা জেলেদের নিয়মিত সচেতন করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নৌযান ব্যবহার, নিষিদ্ধ জাল পরিহার, ছোট আকারের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ সম্ভব হয়।

একই সঙ্গে জেলেদের নিরাপদে মাছ আহরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

লাল কোরালের বৈজ্ঞানিক নাম হলো লুটজানাস আর্জেনটিম্যাকুলেটাস। বঙ্গোপসাগর ও উপকূলে বিচরণ করা মাছটি ‘লাল কোরাল’ নামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad