বাসায় কাজ করানোর প্রতিবাদ, সুপ্রিম কোর্টের ৪ কর্মচারী বরখাস্ত

বাসায় কাজ করানোর প্রতিবাদ, সুপ্রিম কোর্টের ৪ কর্মচারী বরখাস্ত
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিচারপতিদের বাসায় কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় প্রতিবাদ করে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের চারজন এমএলএসএস। তারা হলেন মো. আসাদুজ্জামান, মোসা. রুক্ষুন নিশা, মো. মিরাজ ও মো. মেহেদী হাসান।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গের অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন এমএলএসএস। এই ব্রিফিংয়ের পরদিনই বরখাস্তের আদেশ এল।

ব্রিফিংয়ে তারা দাবি করেন, তাদের চাকরির সার্কুলারে অফিস সহায়ক হিসেবে অফিসে ডিউটি করার কথা বলা ছিল, বাসায় ডিউটির কথা উল্লেখ ছিল না। এ অবস্থায় তাদের দীর্ঘদিন বিচারপতিদের বাসায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের উদ্যোগে তাদের বাসা থেকে প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল কাজে ফিরিয়ে আনা হয়। সম্প্রতি আবারও এই এমএলএসএসদের বিচারপতিদের বাসায় কাজ করতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

বিচারপতিদের বাসায় কাজের অভিজ্ঞতাকে ‘দাসবৃত্তির’ সঙ্গে তুলনা করে এমএলএসএসরা বলেন, বিচারপতিদের বাসায় ডিউটি করার কারণে তারা কোনো সাপ্তাহিক ছুটি পান না। ঈদের দিনও কাজ করতে হয়। তারা আর বাসাবাড়িতে যেতে চান না।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি, উল্লেখ করে এমএলএসএসরা বলেন, ‘বিচারপতিদের বাসায় বিভিন্নভাবে আমরা অত্যাচারিত ও জুলুমের শিকার হই। আমরা অফিশিয়াল চাকরি করতে এসেছি, কিন্তু তারা আমাদের দিয়ে বাবুর্চি, নিরাপত্তাকর্মী, ধোপা, দারোয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও করাচ্ছেন।’

জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এমএলএসএস পদের নতুন নাম অফিস সহায়ক। তাদের কাজ মূলত অফিসে সীমাবদ্ধ। ১৯৬৯ সালের পরিপত্র অনুযায়ী, অফিস সহায়করা অফিসের আসবাব ও রেকর্ড সুন্দরভাবে বিন্যাস, ফাইল ও কাগজপত্র স্থানান্তর, হালকা আসবাব সরানো, ফাইল অন্য অফিসে নেওয়া, কর্মকর্তাদের পানীয়জল পরিবেশন, মনিহারি ও অন্যান্য জিনিস সংরক্ষণ, ইউনিফর্ম পরা, কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা, ভদ্র ব্যবহার করা, ব্যাংকে চেক জমা ও টাকা তোলা, ১৫ মিনিট আগে অফিসে আসা এবং বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ করবে না। কিন্তু আদালতের যেসব কর্মচারীকে বাসায় পাঠানো হয়, তাদের গৃহকর্মী, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad