চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলায় মঙ্গলবার এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে সরকারি কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেবেন।
সোমবার ডিসি পার্কে কর্মসূচির প্রস্তুতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করি। কিন্তু ১৫ হাজার মানুষের আন্দোলন হবে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন।’
ডিসি জানান, চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলো বাঁচিয়ে রাখতে পরিচর্যা ও তদারকির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। চারা রোপণের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার গর্ত করা হয়েছে। বাকি গর্ত কর্মসূচি শুরুর আগেই প্রস্তুত করা হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানায় চারা বিতরণও শুরু হয়েছে।
জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তার হাত দিয়েই ডিসি পার্কে এক লাখতম চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চারা বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গাছ লাগালেই কাজ শেষ হয়ে যাবে না। গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে।’
তিনি জানান, চারার সুরক্ষায় বেড়া দেওয়া এবং তদারকির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো চারা মারা গেলে বা দুর্বল হয়ে পড়লে তা প্রতিস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার চারা মজুত রাখা হয়েছে।
পরিচর্যা ও তদারকি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। এ কাজে বন বিভাগ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান জাহিদুল ইসলাম। চারা সংগ্রহে সহায়তার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন, বন বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।
নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ রক্ষারও আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজনে উন্নয়নমূলক কাজ চলবে। তবে সেই উন্নয়ন যেন আগামী প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিকদের বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই আন্দোলন আমাদের বেঁচে থাকার আন্দোলন। এই আন্দোলন আমাদের আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার আন্দোলন।’
কর্মসূচি সম্পর্কে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


