গত দুদিন ধরে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা সদরে জনজীবনে এখনো তেমন সমস্যা দেখা না দিলেও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে গেছে।
এদিকে সমুদ্রে নিম্নচাপের ফলে টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন অবস্থায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
বান্দরবান মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর প্রথম ছয় মাসে এই জেলায় বৃষ্টিপাতের চাহিদা ১২০০ থেকে ১৫০০ মিলিমিটার। এ বছরে শুরু থেকে এ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৪৯৭ মিলিমিটার। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০১ মিলিমিটার। এর ফলে মাটি শুকিয়ে কিছুটা আলগা অবস্থায় আছে।
কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেছেন, টানা অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের মতো এই অঞ্চলে আবারও জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সাঙ্গু নদী এবং এতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন পাহাড়ি খালে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচি উপজেলা প্রশাসন ৯ জুলাই পর্যন্ত নদী পথে নাফা খুমসহ কয়েকটি বিপজ্জনক পর্যটন স্পটে ভ্রমণ ‘নিরুৎসাহিত’ করেছে।
এ ছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তম্ব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তম্ব্রু উচ্চ বিদ্যালয়, কোনার পাড়া এবং মধ্যম পাড়ায় পানি উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানিয়েছে, বান্দরবান জেলার উত্তর পুর্বাংশের সাঙ্গু নদীতে এখনো বিপদ সীমার অনেক নীচ দিয়ে (৭ দশমিক) পানি প্রবাহিত হলেও দক্ষিণ-পুর্বাংশের মাতামুহুরী নদীতে পানি প্রবাহ বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী জেলার আলীকদম ও লামা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীতে সোমবার বেলা ১২টায় ১১ মিটারেরও বেশি (১১ দশমিক ০৩ মিটার) উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীর বিপদ সীমা হচ্ছে ১১ দশমিক ৮ মিটার।
তবে, রোববার থেকে জেলা সদরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও সাঙ্গু নদীর পানি বিপদ সীমার (১৪ দশমিক ৮ মিটার) অনেক নিচ দিয়ে (৭ দশমিক ৬৭ মিটার) প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত বাকখালি নদীতে বিপদ সীমার (৫ দশমিক ৭৯ মিটার) প্রায় কাছাকাছি ৫ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে।


