যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা অতিরিক্ত দক্ষ কর্মী ভিসা, অর্থাৎ এইচ–ওয়ান বি ভিসার বর্ধিত ফি বহাল রেখেছে দেশটির ফেডারেল আদালত। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ডিস্ট্রিক্ট আদালত এই ফি বহালের আদেশ দেয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশটিতে কর্মী ভিসার (ওয়ার্ক ভিসা) আবেদন ফি এক লাখ ডলার নির্ধারণ করেন ট্রাম্প। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর আগে এ ভিসায় আবেদন করতে প্রতিষ্ঠানভেদে দুই হাজার থেকে আট হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে হতো।
ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইউএস চেম্বার অব কমার্স আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক বেরিল হাওয়েল শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের সেই চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেন।
তিনি ঘোষিত রায়ে বলেন, ‘অভিবাসন নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের বিস্তৃত আইনি ক্ষমতার মধ্যেই ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও আছে। কাজেই নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসংগত বা কার্যকর- সে বিষয়ে মতামত দেওয়া আদালতের কাজ নয়।’
বিচারক হাওয়েল বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় নেওয়া পদক্ষেপ যদি আইনের সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে তা বহাল রাখা আদালতের বাধ্যবাধকতা। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভিসা ফি বৃদ্ধির আদেশ বাতিল করার সুযোগ নেই।’
রায়ের পর মামলার বাদী পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী লবি সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তাদের দাবি, এইচ–ওয়ান বি ভিসার জন্য এক লাখ ডলারের নতুন ফি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর ফলে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সেবামূলক সংস্থা তাদের কার্যক্রম কমিয়ে আনতে বাধ্য হবে।
সংগঠনটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আইন উপদেষ্টা ড্যারিল জোসেফার বলেন, ‘এই অতিরিক্ত ফি ছোট ও মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’
রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন বলে জানান জোসেফার।
এইচ–ওয়ান বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তারা ‘বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন’ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে থাকেন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলো এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
প্রতিবছর এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। এসব ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর।
ব্যবসায়ী সংগঠনটির অভিযোগ, এই নতুন ফি কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হয় শ্রম ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে হবে, নয়তো বিদেশি উচ্চদক্ষ কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিতে হবে। এতে চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, এই ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক, নিয়োগকর্তা, অলাভজনক ও ধর্মীয় সংগঠনও আলাদা করে মামলা করেছে।
অন্যদিকে ভিসা ফি আরোপের আদেশ জারির সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এইচ–ওয়ান বি কর্মসূচির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন। আমাদের সেরা কর্মী দরকার। এ ব্যবস্থা মূলত সেটিই নিশ্চিত করবে। শুধুমাত্র যোগ্যরাই যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য বাড়তি আবেদন ফি পরিশোধ করবে।’
ট্রাম্প জানান, এইচ-ওয়ান বি ভিসার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। ওই কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বদলে দক্ষ বিদেশি নাগরিকদের কাজের সুযোগ দিতে বেশি আগ্রহী। এ ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার ওপর মনোযোগ দেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে এইচ ওয়ান বি ভিসার ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এবং বিদেশি কর্মীদের কারণে মার্কিনিদের বেকারত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টারই অংশ বলেও জানান তিনি।
বিচারক হাওয়েল রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য ও উদাহরণ উপস্থাপন করেছে। রায়ে এমন কোম্পানির কথাও উল্লেখ করা হয়, যারা একদিকে হাজার হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে, অন্যদিকে একই সময়ে এইচ–ওয়ান বি ভিসার জন্য আবেদন করেছে। এসব যুক্তির ভিত্তিতেই আদালত ট্রাম্পের আদেশকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।


