জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই লোডশেডিং, শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক সংসদ সদস্য (এমপি)।
রোববার সংসদ অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা সরকারের কাছে জবাব চান।
অধিবেশনের শুরুতেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুল।
তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তার নির্বাচনী এলাকা যশোরের অভয়নগর ও নওয়াপাড়া দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল হলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে সেখানে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, আবার কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।
গোলাম রছুল বলেন, শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি সংকট শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কী, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বড় ধরনের কোনো বিশেষ সংকটের তথ্য তার কাছে নেই। তবে যেখানেই সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আশুগঞ্জের জিয়া ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, গত ১ জুন থেকে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর কথা থাকলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জবাবে মন্ত্রী দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও নানামুখী সংকটের কথা তুলে ধরেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা উচিত। সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যায়।
একই প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে এলাকায় গিয়ে তিনি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানালে তারা তাকে প্রয়োজন হলে ডাকবাংলোয় অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাও সংসদে উত্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি হলে কেন সাধারণ গ্রাহকদের অর্থ সংগ্রহ করে নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে হবে? এটি বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব নাকি জনগণের— সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।


