বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
বৃহস্পতিবার মতিঝিলে সংগঠনের কার্যালয়ে সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। সভায় এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান সভাপতিত্ব করেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বাজেটে সুদের হার যৌক্তিকীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রাধিকার খাতের উন্নয়ন, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ স্থাপন এবং অংশীজনভিত্তিক আইন প্রণয়নের বিষয়েও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে করনীতি, করপদ্ধতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সরকার কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আয় বাড়ানো মানেই ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ বাড়ানো নয়। করের আওতা বাড়িয়েই রাজস্ব বৃদ্ধি করা হবে।’
বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিতিশীল, জ্বালানি বাজার অস্থির এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনিশ্চিত অবস্থায় নতুন সরকারের জন্য এবারের বাজেট প্রণয়ন চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে।
তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে যৌক্তিক প্রস্তাবনার মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য ও এফবিসিসিআই বাজেট এক্সপার্ট কমিটির সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন এবং আমিনুর রহমানসহ সংগঠনের সাবেক পরিচালক, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং এফবিসিসিআই কর্মকর্তারা।


