কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বুধবার বাংলাদেশ-শ্রীলংকার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। এর আগে মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এলেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। কথা বলেছেন প্রায় ১৫ মিনিট। প্রথম ১২ মিনিট ক্রিকেটীয় দিক, একাদশ নির্বাচন, ক্রিকেটারদের নিয়েই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। কিন্তু শেষ প্রশ্নের উত্তরেই বদলে গেল পুরো আবহ। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে নিজের ভেতরে থাকা সব ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে প্রমাণ উপস্থাপনের দাবিও করলেন জাতীয় দলের এই কোচ।
এক পর্যায়ে বলে উঠলেন, ‘বাংলাদেশ টিম আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি না।’। সাথে কোচিং নিয়ে পরিস্কার করলেন নিজের অবস্থানও। সোজাসাপ্টা জবাবে বললেন, বিসিবির কোচিংয়ের চাকরি তার করতেই হবে, এমনটা ভাবেন না তিনি।
গত নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সালাহউদ্দিন। এরপর থেকে দলের পারফরম্যান্স গ্রাফের সাথে জুড়ে গেছে তার নাম। দলে কোনো ব্যাটিং কোচ না থাকায় লিটন দাসদের ভালো-মন্দটা দেখতে হয় তারই। সালাহউদ্দিন দায়িত্ব নেয়ার পর অবশ্য ব্যাটিংয়ের গ্রাফ নিম্নমুখী। শ্রীলংকা সফরে ওয়ানডে সিরিজে এক ম্যাচেও ব্যাট করতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের ব্যাটিংও ছিল এলোমেলো। তাই সমালোচনা হওয়াটাই প্রত্যাশিতই।
কিন্তু সালাহউদ্দিনের আপত্তি তার পারফরম্যান্সের সমালোচনা নিয়ে নয়। গত কিছুদিনে বাংলাদেশের গণ মাধ্যমে কিছু প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে হওয়া ঢালাও কিছু অভিযোগ নিয়ে। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়, কোচ ফিল সিমন্সের বদলে দলের ওপর তার কতৃত্বই বেশি। এর সাথে তার বিপক্ষে বেশ কিছু অভিযোগের কথাও এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
এসবের সাথে জানা গেছে, নতুন ব্যাটিং কোচ খুঁজছে বিসিবি। গুঞ্জন আছে শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েচ বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে। যেহেতু এখন ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, সেই হিসেবে নতুন কেউ এই দায়িত্বে এলে সালাহউদ্দিনের সাথে সেটা কোনোভাবে সাংঘর্ষিক হবে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবেই মূলত ফুঁসে ওঠেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন দেশের ক্রিকেটের যেকোনো পর্যায়ে কাজ করতে রাজি তিনি , ‘দেখুন আমি কোচ। আমাকে যদি আপনি কালকে বলেন, সালাউদ্দিন তুমি যাও আন্ডার থার্টিনে কোচিং করাও আই ডোন্ট মাইন্ড। আমার এখানে ট্যাগ লেখা নেই, আমি শুধু জাতীয় দলের কোচ। তো এটা নিয়ে আমার কোনো ইগোর সমস্যা নাই। এটা নিয়ে আমি চিন্তিতও না। নতুন কেউ আসলে সেটা যদি দলের জন্য ভালো হয়… দেখুন বাংলাদেশ দল আমার বাপ দাদার সম্পত্তি না। এটা হচ্ছে আমি যদি ভালো না করি সমালোচনা হবেই। এটা স্বাভাবিকভাবে আমাকে মেনে নিতেই হবে। ভালো করলে সবাই বাহবা দিবে।’
তার বিপক্ষে গণ মাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেসবের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন সালাহউদ্দিন। অবশ্য সেসবের চেয়ে নিজের কাছে সৎ থাকাটাকেই মুখ্য বলে মানেন এই অভিজ্ঞ কোচ, ‘আমি টিমের জন্য শতভাগ দিচ্ছি কিনা, আমি নিজের কাছে অনেস্ট কিনা, সেটাই আমার কাছে মূখ্য বিষয়। আজকে ধরেন ২৭-২৮ বছর কোচিং করানোর পর কেউ যদি বলে…আপনারা যেমন বলেন, টিমে অনেক অভিযোগ। কিন্তু অভিযোগগুলো লেখে দিলে ভালো হত। কিন্ত পাবলিকলি বলে দিলেন, আপনাকে তো প্রমাণ দিতে হবে, না?’
দীর্ঘ দিন ধরেই দেশের ক্রিকেটের সাথে যুক্ত সালাহউদ্দিন। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের মতো সফল ক্রিকেটাররা বড় মঞ্চে পারফর্ম করেছেন তার হাত ধরে। এছাড়া যেকোনো সমস্যাতেই নিকট অতীতে অনেকেই তার শরণাপন্ন হয়েছেন। তরুণ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ; সব ক্রিকেটারের জন্যই খোলা ছিল তার দুয়ার।
তবে সালাহউদ্দিন বাস্তবতার নিরীখে বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়ে বলেন, ‘ প্রমাণ দিলে ঐ কোচের জন্য ভালো হতো এবং আমি যদি ভুল করে থাকি তাহলে আমি শুধরাবো। কিন্তু আমি জানি আমি কী। আমি ভালো কোচ নাও হতে পারি। আমি যদি ভালো না হই বোর্ড আমাকে সরিয়ে দিক, কোনো সমস্যা নেই।’
তবে বিসিবিতে চাকরি না করলেও কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে সালাহউদ্দিন আরো বলেন, ‘কেউ সৎ নাকি অসৎ, এটা জেনে তার বিরুদ্ধে লেখা উচিত। হয়তো আমি মানসিকভাবে অনেক শক্ত আছি, অনেক দুর্বল মানুষ কিন্তু পড়ে যেতে পারে। আর আমার এমন নয় যে, এখানে চাকরি করতেই হবে। আমার অনেক কিছু করার আছে। এখানে আমি নিজের ইচ্ছায়ও আসিনি। আমি চাকরি চেয়েছি, এখানে চাকরি দেন, এমন কিছুই না।’


