ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের একটি ট্রাভেল এজেন্সির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বাংলাদেশি ওই প্রতিষ্ঠানটির নাম ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে রাশিয়ায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত অনলাইনভিত্তিক ভ্রমণসেবা দিয়ে থাকে। তারা বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সহায়তা এবং ভ্রমণ প্যাকেজ সরবরাহ করে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে জনবল ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে রাশিয়া বিভিন্ন দেশ থেকে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ অভিবাসীদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে। মানবপাচারের মাধ্যমে রাশিয়ায় পোঁছানো অনেককে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে, আবার কেউ কাজ করছেন অস্ত্র ও ড্রোন কারখানায়।
ব্রিটেনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো ওই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। তাদের দাবি, উন্নত জীবনের আশায় থাকা অভিবাসীদের এসব নেটওয়ার্ক শোষণ করছে। তাদের উন্নত দেশে, ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধ, ড্রোন উৎপাদন কিংবা সামরিক কারখানায় কাজে লাগানো হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ‘আলাবুগা স্টার্ট’ নামে একটি কর্মসূচিকে ঘিরে এসব অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে অসহায় মানুষদের ব্যবহার করা অত্যন্ত বর্বর কাজ। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য- মানবপাচারকারী ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা।’
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ‘বিশ্বব্যাপী অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা বিধিমালা ২০২৫’-এর আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য- রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে অভিবাসন ও মানবপাচারের ব্যবহার প্রতিরোধ করা। এই বিধিমালার আওতায় বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে।
‘ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে’ জানিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলেন, ‘একই সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক সরবরাহব্যবস্থা ও মানবপাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে।’
যুক্তরাজ্যের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাশিয়াসহ অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনে জড়িত ব্যক্তিরা হলেন- আনাস্তাসিয়া বারিশেভা, কনস্তান্তিন ত্রিফোনভ, চুলপান ইসলামোভা, সাভসান আশুরালিয়েভনা ইউসুপোভা, এলমির সাইফুলিন, মিশেল গি ফ্রান্স আওয়ানা আতেবা এবং ইনাঙ্গু হোল্ডিং।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতে ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ বা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন- পাভেল ভালেরেভিচ নিকিতিন, এগর ভালেরেভিচ নিকিতিন, এলএলসি এসএনকে ট্রেড, সের্গেই নিকোলায়েভিচ কাশচেঙ্কো এবং এলটেক কম্পোনেন্ট এলএলসি।
রাশিয়াকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে- এম৯ লজিস্টিকস কোম্পানি লিমিটেড, এম৯ লজিস্টিকস হংকং লিমিটেড, সি টু স্কাই কোম্পানি লিমিটেড, ক্যানোপাস ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, তানাক কোম্পানি লিমিটেড এবং মিখাইল ইউরিয়েভিচ ভোলোভিক।
বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ফয়সাল আবদুল মুত্তালিব খান, মোহাম্মদ সুফিয়ান দাউদ আহমদ দারাগুর, রাকেশ তারকনাথ পান্ডে, দীপক কুমার তারকনাথ পান্ডে, মনজিৎ সিং, সুয়াশ মুকুট, এলেনা স্মিরনোভা, দাইয়ানা এচেমেন্দিয়া দিয়াজ, মিখাইল সের্গেইভিচ লিয়াপিন, বাবা ভ্লগস ওভারসিজ রিক্রুটমেন্ট সল্যুশনস প্রাইভেট লিমিটেড, ওএসডি ব্রাদার্স ট্রাভেলস অ্যান্ড ভিসা সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যাডভেঞ্চার ভিসা সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড, টোয়েন্টিফোর ইনটু সেভেন রাস ওভারসিজ ফাউন্ডেশন এবং ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড।
ইউক্রেন ও ইউরোপে অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে অভিবাসনকে ব্যবহারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রয়েছেন সের্গেই ভিয়াচেস্লাভোভিচ মেরজলিয়াকভ, আবিদ খালিদ শরিফ আবিদ এবং পোলিনা আলেকজান্দ্রোভনা আজানরিখ।


