চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে প্রার্থীদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।
সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, আবাসিক হল ও শাটল ট্রেনে নিজেদের প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেছে ৩০৫টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। এছাড়া ভোটের দিনে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে আনাগোনার জন্য শাটল ট্রেন ও বাসের বিশেষ শিডিউলও ঘোষণা করা হয়েছে।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রাত ১০টা পর্যন্তই প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। তাই শেষ সময়টুকু কাজে লাগাতে তারা ভোটারদের কাছে, জানাচ্ছেন নিজেদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির কথা।
বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবির বিন জাবেদ বলেন, ‘শেষদিনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করছি।’
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম রনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাড়া আশাব্যঞ্জক। রাত ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে প্রজেকশন মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শেষ করব।’

শেষ দিনে বিভিন্ন হলে গিয়ে জনসংযোগ করেছেন বলে জানালেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী সাফায়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।’
পৌঁছেছে ব্যালট বাক্স
আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অফিসে এরই মধ্যে এসে পৌঁছেছে ৩০৫টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স।
প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য চারটি ও হল সংসদের জন্য একটি করে—মোট পাঁচটি ব্যালট বাক্স থাকবে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের প্রতীকসংবলিত লেবেল লাগানোসহ অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোটের দিন সকালে বাক্সগুলো কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
ট্রেন ও বাসের বিশেষ শিডিউল
ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া সহজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাটল ট্রেন ও বাসের অতিরিক্ত শিডিউল ঘোষণা করেছে।
সেদিন শহরের নিউমার্কেট থেকে সকাল ৯টায় পাঁচটি ভাড়া করা বাস এবং ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পাঁচটি বাস ছাড়বে। সকাল ১০টায় একই স্থান থেকে আরও পাঁচটি বাস রওনা দেবে ক্যাম্পাসমুখী শিক্ষার্থীদের নিয়ে।
শাটল ট্রেনেও যোগ হয়েছে একটি স্পেশাল ট্রেন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছাড়ার পর ধারাবাহিকভাবে সকাল ৮টা, ৯টা ৩০, ১০টা ১৫ ও ১১টা ৩০ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে। দুপুর ১২টার স্পেশাল ট্রেন ছাড়াও দুপুর আড়াইটায়, বিকেল ৩টা ৩০ ও ৫টায় আরও তিনটি ট্রেন যাবে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর চাকসু নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রচারণা শেষের সঙ্গে সঙ্গে এখন শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের অপেক্ষা কেবল ১৫ অক্টোবরের ভোটযুদ্ধের দিনটির জন্য।
এবারের চাকসু নির্বাচনে ২৬টি পদে ১৩টি প্যানেলসহ মোট ৪১৫জন প্রতিদ্বদ্ন্দ্বীতা করছেন। এছাড়া ১৪টি হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৪৮৬জন। মোট ২৭৫১৮ জন ভোটার ১৫টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।


