মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় একটি পাকা সেতুর অভাবে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০টি গ্রামের মানুষ। বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কোনো বিকল্প পথ না থাকায় যাতায়াতের সময় প্রতিটি মুহূর্তেই তাদের চরম দুর্ভোগ আর বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নবগ্রাম ইউনিয়নের শশিকর চৌমুহনী এলাকায় খালের ওপর একসময় একটি কাঠের সেতু ছিল। খালের উত্তর ও দক্ষিণ তীরের হাজার হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করতেন। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হলেও এর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে পারত ছোট ও মাঝারি ধরনের যানবাহন।
কয়েক বছর আগে এক ঝড় ও খালের তীব্র স্রোতে কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে যাতায়াত সচল রাখতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।
বর্তমানে এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক এবং চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে খালের তীব্র স্রোতের কারণে এই সাঁকোটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেম সেখানে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে পুরনো লোহা ও কাঠের সমন্বয়ে সেখানে একটি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। মাদারীপুরের মোস্তফাপুর থেকে গোপালগঞ্জের পয়সার হাট পর্যন্ত এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
তিনি আরও বলেন, কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ার পর মানুষ এখন চরম ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
দুলাল তালুকদার জানান, তিনি একটি নতুন পাকা সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছেন। দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জনগণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, দ্রুত পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের শুরুতেই এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


