বন্ধ চিনিকল চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শিল্পমন্ত্রী

বন্ধ চিনিকল চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শিল্পমন্ত্রী
শনিবার পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে আখচাষি, শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক করা এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মিলগুলো বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। এগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা চাই, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।’

তিনি বলেন, দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। এতে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে। কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হবে। তবে সবক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শ্রমিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। এতে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে ও দারিদ্র্য কমবে। ওই লক্ষ্যে সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতারা।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬৬-৬৯ সালে দৈনিক ১ হাজার ১৬ টন আখ মাড়াই ক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৯-৭০ সালে চূড়ান্ত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad