রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রায় সোয়া ২ ঘণ্টা অবরোধের পর পুলিশের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে রংপুর বিভাগের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত নগরীর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং নগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবরোধকারীরা মেডিকেল মোড় থেকে হাজীপাড়া মোড় পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদন্ত ছাড়াই রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অবরোধকারীদের পক্ষে রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কবির সাংবাদিকদের বলেন, নিহত শিক্ষার্থীকে একসময় পড়ালেও পরে তিনি তা বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে তথ্য জানাতে সাকিন নিজেই গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মাহফুজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে অবরোধ তুলে নেন। রাত ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি আন্দোলনকারীদের জানানো হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় নর্থ ভিউ হোটেলের ১০ তলার রুফটপ থেকে পড়ে মারা যান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে তার বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় শাহরিয়ার সাকিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে সাকিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাকিন।
মঙ্গলবার বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে শাহরিয়ার সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে তার সঙ্গে নিহত শিক্ষার্থীর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে আদালতে নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে শাহরিয়ার সাকিন দাবি করেন, নিহত শিক্ষার্থী তার ছাত্রী ছিলেন। তিনি তাকে পছন্দের কথা জানালে কয়েক মাস আগে পড়ানো বন্ধ করে দেন। ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানাতেই তিনি ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।
সাকিনের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মৃত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, বিকালে তরুণী একাই রুফটপে যান এবং কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি নিচে পড়ে যান। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


