জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। টানা দুটি বড় নির্বাচনে শাসক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) পরাজয়ের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ইশিবার পদত্যাগের ঘোষণা এল এমন সময়ে, যখন এলডিপি সোমবার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোট আয়োজনের কথা ছিল। এই ভোট কার্যত তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে পরিণত হতো।
প্রায় সাত দশক ধরে জাপান শাসন করে আসছে এলডিপি। তবে ইশিবার নেতৃত্বে দলটি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে উচ্চকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান এখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এমন এক সময়ে, যখন চীনের সঙ্গে উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত গাড়ি ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের শুল্ক শিথিল করতে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেটির উল্লেখ করে ইশিবা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে আলোচনায় আমরা একটি সমাধানে পৌঁছেছি। আমি বিশ্বাস করি, এটাই পদত্যাগের সঠিক সময়।’
তবে এতদিন তিনি পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। তার দাবি ছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ বিরোধ নিষ্পত্তি করেই তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। ইশিবা যোগ করেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমস্যার সমাধান আমাদের প্রশাসনের অধীনেই হওয়া উচিত।’
৬৮ বছর বয়সী ইশিবা জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসা ইশিবা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থির রাজনৈতিক সম্পর্কে তিনি জনআস্থা অর্জনে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে চালের দাম এক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হওয়ায় তার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় মাত্র দুই নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দলীয় সদস্যদের দামি উপহার দেওয়ার কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। জুলাই মাসে উচ্চকক্ষের নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে দলীয় সহকর্মীরা ইশিবাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে মনোযোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্তকরণের দিকে। শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন জাপানের গুরুত্বপূর্ণ গাড়িশিল্পকে নড়বড়ে করে তুলেছিল।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে গত সপ্তাহে জাপানি মুদ্রা ইয়েন ও সরকারি বন্ডবাজারে ধস নামে। বুধবার ৩০ বছরের বন্ডের মুনাফার হার সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।


