ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ততা নিশ্চিত করতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তি পরিদর্শন উপলক্ষে টিএনটি বালক বিদ্যালয়ে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ০ থেকে ১০০০ স্কোরের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলে অন্তর্ভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দারিদ্র্যের ধাপ পুনর্নির্ধারণ করা যাবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করতে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’-এ দর্শনের ভিত্তিতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, বলেন তিনি।
বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটি দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।
যোগ্যতা নির্ধারণে গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ দশমিক ৫ একর বা তার কম থাকা এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি সরাসরি পরিবারের মা বা নারী প্রধান সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকারি কোষাগার থেকে এ অর্থ জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ কমিটি থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পৃথক বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৪টি ভিন্ন বৈচিত্র্যের এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি, মিরপুরের অলিমিয়ারটেক বস্তি ও বাগানবাড়ী বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শিল্প এলাকা, বান্দরবানের লামা পার্বত্য এলাকা, সুনামগঞ্জের দিরাই হাওড় এলাকা এবং ঠাকুরগাঁও সদর সীমান্তবর্তী এলাকা।
এলাকা নির্বাচনে দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও অনগ্রসরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বাস্তবায়ন রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১৪টি ইউনিটে ১০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
পরবর্তী ধাপে প্রতি পর্যায়ে ১০ হাজার করে বৃদ্ধি করে জুন ২০২৬ এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে ৪০ হাজার পরিবারকে কার্ডের আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবে।
এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


