জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে মাদকাসক্তি শনাক্ত পরীক্ষা বা ‘ডেপ টেস্ট’ ছাড়াই প্রার্থীদের ভোটগ্রহণ নিয়ে কিছুটা ‘ক্ষোভ প্রকাশ’ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের ২০ নম্বর হলে ভোট দেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে “কিছু ধোঁয়াশা” রয়েছে। যেমন, “ডোপ টেস্টের” ফলাফল এখনো না দিয়ে প্রার্থী ভোট প্রদান করছে। এই “ডোপ টেস্টের” ফলাফল কখন দেওয়া হবে, তা কেউ জানে না।’
‘এছাড়া পোলিং এজেন্ট সেন্টারে প্রবেশের ব্যাপারেও তারা কিছু স্পষ্ট করেনি,’ বলেন তিনি।

তবে ভোটগ্রহণের সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রশ্নে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যোগ্য, নৈতিকভাবে সৎ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করবেন এমন প্রার্থীদের বেছে নিবেন বলে প্রত্যাশা করি।’
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ সাদী সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যথেষ্ট বলে মনে করেন। শেখ সাদী বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হবে এবং একটি আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার্থীরা ভোট প্রদান করবে।’
‘এছাড়া এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে; সক্রিয় রয়েছে বিজিবি ও আনসার বাহিনী,’ বলেন তিনি।

স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের জিএস প্রার্থী শাকিল আলী বলেন, ‘সব হলের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো কঠিন। গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে যারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে থেকে কাজ করেছেন, তাদের যেন শিক্ষার্থীরা বেছে নেন।’
আবু ইসলাম জামান আইন ও বিচার অনুসদের ৫৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। নজরুল ইসলাম হলকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৩ বছর পর একটি ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। আমি ইতিহাসের অংশ হয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি।’

বহুল কাঙ্ক্ষিত এই জাকসু নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। দীর্ঘ ৩৩ বছরের খরা কাটিয়ে শুরু হওয়া জাকসুর ভোট নিয়ে রয়েছে সকলের বাড়তি আগ্রহ। উপরন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের একদিন পরেই হওয়ায় জাকসুর ভোটের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।
সকাল ৯ টার দিকে ব্যালট বক্স এবং ব্যালট পেপার নিয়ে আসা হয় সংশ্লিষ্ট হলগুলোতে।

নির্বাচনে ভোটের প্রথম প্রহরে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপচে পরা ভিড়; ভোট দেওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে আছেন সকলে।
বিকাল ৫টায় নির্বাচন শেষে ভোট গণনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
এবার জাকসুতে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় হাজার ১০২ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ হাজার ৮১৭ জন।
ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ১০টি মেয়েদের হল ও ১১টি ছেলেদের হল মিলিয়ে মোট ২১টি হলে স্থাপন করা হয়েছে ২২৪ বুথ। এ ভোটে পোলিং অফিসার রয়েছেন ৬৭ জন। সহযোগী পোলিং অফিসারও ৬৭ জন। সংশ্লিষ্ট হলের ওয়ারদেন রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া হল সংসদের সভাপতি বা প্রভোস্ট পালন করছেন সার্বিক দায়িত্ব।


