ফের হামলা হলে মার্কিন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ফের হামলা হলে মার্কিন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির নেতারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরানি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় বলেছে, তেহরানে ফের আঘাত এলে যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোগুলোতে ‘দীর্ঘ সময় ধরে, যন্ত্রণাদায়ক’ হামলা চালাবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত ফল পাওয়া বাস্তবসম্মত নয়। স্বল্প সময়ে ফলাফল আশা করাও বাস্তবসম্মত নয়, মধ্যস্থতাকারী যেই হোক না কেন।’

এদিকে মেহর নিউজের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে একাধিকবার তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা তৎপরতার শব্দ শোনা গেছে। আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতে ছোট ড্রোন ও নজরদারি বিমান মোকাবিলা করছিল।

একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে এবং সেখানে অবস্থানরতদের দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না। হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানির বর্ধিত দাম নিয়েও শঙ্কার কিছু নেই। যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে।’

আরও পড়ুন

এদিন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন করে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের কথা ছিল । তবে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দেননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অর্থনীতি ‘ভয়াবহ অবস্থায়’ রয়েছে। আরও কিছু দিন ইরানি বন্দরে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে তারা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নতি স্বীকার করানো সহজ হবে না। যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে অনেক দুর্বল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও দেশটি আপাতত টিকে থাকার সক্ষমতা রাখছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে, তা সীমিত হলেও, মার্কিন আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর ওপর “দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক হামলা” শুরু হবে। ইরানের মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার মাজিদ মুসাভি বলেন, ‘আপনাদের ঘাঁটিগুলোর কী হয়েছে আমরা দেখেছি, একই ঘটনা আপনাদের যুদ্ধজাহাজের ক্ষেত্রেও ঘটবে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থাপনায় তেহরান হরমুজ প্রণালিতে “শত্রুদের অপব্যবহার” বন্ধ করবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। সর্বোচ্চ এই নেতা বলেন, ‘হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা বিদেশিদের সেখানে কোনো স্থান নেই, পানির নিচে ডুবে যাওয়া ছাড়া।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টও। দেশটির আইনপ্রণেতারা নতুন এক প্রস্তাব আনছেন যেখানে শুক্রবারের মধ্যে ট্রাম্পকে যুদ্ধ শেষ করতে হবে অথবা কংগ্রেসের কাছে তা চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি দিতে হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি, গত ৮ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে আইনগতভাবে সংঘাত শেষ হয়েছে বলে ধরা হচ্ছে। কাজেই নতুন কোনো প্রস্তাবের যুক্তি নেই।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে একটি নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ এতে আগ্রহ দেখালেও তারা বলেছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেই কেবল তারা জোটে অন্তর্ভুক্ত হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad