মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শেভরন বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট (অপরিশোধিত তেল) পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য দুইদিনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তেলের পাইপলাইনের ছিদ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া তেলের কারণে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই আগুনের ঘটনায় গণশুনানি হবে ৮ ও ৯ অক্টোবর।
পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো. তানভীর হোসেন গত ৫ অক্টোবর স্বাক্ষরিত নোটিশে জানান, ভুনবীর ইউনিয়নের ইলামপাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, সূত্রপাত ও অন্যান্য বিষয়াদি অনুসন্ধানের জন্য আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় গ্রামবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। তদন্ত কমিটি আশা করছে, স্থানীয়দের স্বাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
নোটিশে আগ্রহী নাগরিকদের সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যোগাযোগ নম্বর: +৮৮০১৭১৭০৪৫২৬৬।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম ইলামপাড়ায় পাইপলাইনে ছিদ্র করে তেল চুরির চেষ্টা করা হয়। পাইপলাইন থেকে নির্গত তেল জৈতাছড়া গাঙে ছড়িয়ে পড়লে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা তা ঘিরে পড়ে। তেলের গন্ধে আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হন।
আগুনে দগ্ধ হয়ে ভুনবীর গ্রামের একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। তারা হলেন- বশির মিয়া(৫০),তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পারভীন(৪০) ও পুত্র রেদোয়ান (২২)।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে। এতে পাইপলাইনের অবস্থা, তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরা হবে।


