বাধ্যতামূলক হওয়ার পরেও ফায়ার লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ফায়ার লাইসেন্সবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী ভবনে সারা দেশে থাকা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রোগী ও সাধারণ জনগণের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিটকারীর আবেদন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
একটি রিটের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স থাকার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স নেই, ফলে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমাত্রার অগ্নিঝুঁকিতে আছে। তাই ফায়ার লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে অসংখ্য রোগী ,দর্শনার্থী, ডাক্তার ও সেবকগণ চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত অবস্থান করেন, যা তাদের জীবনকে অগ্নিদুর্ঘটনার দিকে ঠেলে দেয়। তাই ফায়ার লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জনস্বার্থে রিট করা হয়।
এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিটকারী আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের পরও কোন সাড়া না পেয়ে তিনি রিট করেন।
আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে বর্তমানে মোট ১৮ হাজার ১১৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। যার মধ্যে ডায়গনস্টিক সেন্টার ১১ হাজার ৬১৯টি। হাসপাতাল/ক্লিনিক ৫৯৪৪টি, ব্লাড ব্যাংক ২৫০টি।
‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩‘ অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে ফায়ার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাংলাদেশ ফ্যায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত সংযুক্ত তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে মাত্র ৭ হাজার ৫৬৫টি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স আছে।
সারা দেশে অন্তত ১০ হাজার ৫১৮টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। যার একটি বড় অংশ পরিবেশ অনুপযোগী ও অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে জরুরি অগ্নি নিরাপত্তা বাবস্থা নেই বা অপ্রতুল। যথাযথ প্রবেশ ও বের হওয়ার নিরাপদ পথও নেই। একই ভবনে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী ন্যূনতম নিরাপত্তা মানও রক্ষা করা হচ্ছে না।
ফলে, এসব প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র রোগী ও তাদের স্বজনদেনা নয়, বরং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।


