গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়, দুটো এসেছে শেষ ওভারে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে পাকিস্তানকে উড়িয়ে নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মাঠে স্বপ্নের মতো সময় কাটছে টাইগ্রেসদের। রোববার থাইল্যান্ডের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত। যাদের বিপক্ষে পুরনো একটা হিসাব মেলানোর দায় আছে ফাহিমাদের।
২০২৩ সালে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের নাম যখন এসিসি নারী টি-টোয়েন্টি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ ছিল, সেবারের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। হংকংয়ের কৌলুনের ফাইনালে ভারতের ১২৭ রানে আটকে দিলেও নিজেরা ৯৬ রানে অল আউট হয়ে শিরোপা হেরে বসেন লতা মন্ডলরা। ৩১ রানে হারের পুরনো সেই বদলা নিতেই চাইবে বাংলাদেশ।
সেই আসরের অনেক মুখই আছেন এবারের স্কোয়াডে। লতা মন্ডল, রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, সানজিদা মেঘলা, ফারিহা তৃষ্ণারা খেলছেন এবার। পুরনো-নতুনের মিশেলে দল গড়লেও টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের সমস্যা রয়েই গেছে বাংলাদেশের। চার ম্যাচের মধ্যে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ জুটি ৪৮ রানের, গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার বিপক্ষে।
টপ অর্ডারে লতা ছিলেন ধারাবাহিক, অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন মিডল অর্ডারে পারফর্ম করেছেন দুই ম্যাচে। বিশেষত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটে হাতে বিপদের মুখে ৩২ বলে ৪০* রানের ইনিংস খেলার পর বোলিংয়ে ২ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা। তার সাথে ফারজানা ইয়াসমিনের ক্যামিও খেলার দক্ষতাও এসেছে প্লাস পয়েন্ট হয়ে।
থাইল্যান্ডের টার্ডথাই গ্রাউন্ড স্পিন সহায়ক। বাংলাদেশের স্পিনাররাও তাই পারফর্ম করতে পেরেছেন আসরজুড়ে। কোনো ম্যাচে মেঘলা, কোনো ম্যাচে ফাহিমা আবার কোনো ম্যাচে ত্রাতা হয়ে এসেছেন ফাতেমা জাহান। টপ উইকেট টেকারদের লিস্টে তৃতীয় অবস্থানে আছেন মেঘলা, যিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩.৪ ওভার বল করে মাত্র ৬ রানে নেন ৩ উইকেট।
আপাতত শঙ্কা কেবল টপ অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়েই। ভারতের বোলারদের সামলে সেখান থেকে ভালো শুরু পেলে জমে উঠতে পারে লড়াই। কারণ ভারতের রাধা যাদব, তনুজা কানওয়ার, মিন্নু মনিরাও স্পিন জাল বিছিয়ে ফাঁসাতে চাইবে বাংলাদেশকে। ফাহিমারাও চান শিরোপা জিততে।
ফাইনালে ওঠার পর অধিনায়ক ফাহিমা বলেন, ‘ফার্স্ট অফ অল আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছি। আশা করছি, ফাইনালটা আমরা ভালো খেলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছি, দেশের জন্য শিরোপা নিশ্চিত করতে পারব।”
সেমিফাইনালে মাত্র ১১০ রানের পূঁজি নিয়েও জিতেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে অল আউট করে দিয়েছে ৫৬ রানে। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস ফাইনালে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করেন ফাহিমা। তিনি আরো বলেন, ‘উইকেট অনেক স্লো ছিল, সেই অনুযায়ী ১১০ রান নিয়েও আমরা কনফিডেন্ট ছিলাম, বোলাররা সেটা ডিফেন্ড করতে পারব। বোলাররা সবাই বেশ ভালো করেছে। আশা করছি ফাইনালেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।’
এসবের সাথে আরো একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্যনীয়, সেই আসরের সেমিফাইনাল আর এবারের লাইন আপও একই। ২০২৩ সালের প্রথম সেমিতে শ্রীলংকাকে হারিয়েছিল ভারত, আর বাংলাদেশ হারিয়েছিল পাকিস্তানকে। এবারও হয়েছে তাই। আরো একটা ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও বাংলাদেশ। তার চেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জেতার সাথে হিসেব বদলের চ্যালেঞ্জও আছে।


