এক সপ্তাহও টিকলেন না ট্রাম্পের নতুন মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া

এক সপ্তাহও টিকলেন না ট্রাম্পের নতুন মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া
কেটি জাকারিয়া। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ না পেরোতেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন কেটি জাকারিয়া। দায়িত্বের শুরুতেই নিজের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন এবং সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই নতুন প্রেস সচিব।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তার বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তারা জানান, জাকারিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি প্রেস সচিবের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক দিনে সংবাদমাধ্যমের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ায় তিনি জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বলেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (জাকারিয়া) বলেছি, আমার মনে হয় তোমার সুখী থাকাই ভালো। আর আমি নিশ্চিত নই, এই ধরনের কাজে তুমি কখনো সুখী হতে পারবে কি না। এখানে কোনো কিছুই সহজ নয়।’

‘তাকে আন্তরিকভাবেই বলেছি, আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতাম, তাহলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতাম। ভেবে দেখো। তবে আমি হলে অবশ্যই আবার বিবেচনা করতাম’, যোগ করেন তিনি। জাকারিয়ার সঙ্গে পরে আবারও এ বিষয়ে কথা বলার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের সঙ্গে কেটি জাকারিয়া। ছবি: এপি/ইউএনবি

 

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ফের ট্রাম্পের প্রেস সচিব পদে রদবদল আসতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ট্রাম্প জনগণের সামনে তার প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দলীয় প্রার্থীদের সহায়তা করার চেষ্টা করছেন। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের প্রধান মুখপাত্রের পদটি শূন্য হয়ে পড়ল।

গত সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন কেটি জাকারিয়া। পরদিন মঙ্গলবার তিনি প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

জাকারিয়া জানিয়েছিলেন, গত ৭ অক্টোবর প্রেস সচিবের পদে নিয়োগ দিতে তিনি একটি ফোন পান। এর পরের সপ্তাহে ক্যারোলিন লেভিটের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিজের কর্মজীবনের বিবরণে জাকারিয়া আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন>>>> ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

বুধবার ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাকারিয়া বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করেছি এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা আমার রয়েছে।’

তবে রয়টার্সের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য কিংবা রাজধানী ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক এলাকায় আইনজীবী হিসেবে তার নিবন্ধন বা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদের কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

জাকারিয়া পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই আদালতে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পাওয়া যায় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতিতে ভর্তি হওয়ার অনুমোদন নিতে হয়।

বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, তিনি আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারিয়া। ছবি: এপি/ইউএনবি

 

তার বরখাস্তের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইমেইল পাঠানো হলেও জাকারিয়া কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। অথচ শুক্রবার দিনের শুরুতেও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জাকারিয়া জানিয়েছিলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং সেই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, নিজের প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। তিনি এমন একজন নতুন মুখপাত্র চেয়েছিলেন, যিনি তার প্রশাসনের অর্জনগুলো আরও জোরালোভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। এই বিবেচনা থেকেই জাকারিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তবে শুক্রবার ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন প্রেস সচিব নিয়োগের বিষয়ে তার কোনো তাড়াহুড়া নেই।

কেটি জাকারিয়ার এত দ্রুত বিদায়ের ফলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব পদে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এখন তার বলে মনে করা হচ্ছে। নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মাত্র ১০ দিন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যান্থনি স্কারামুচি। তিনি লিখেছেন, ‘রেকর্ড তৈরি হয় ভাঙার জন্যই। তবে অন্য মানুষের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad