ফরিদপুরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধুখালীতে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন এবং কানাইপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।
শুক্রবার বিকাল সোয়া ৩টা ও সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু এবং ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিকাল সোয়া ৩টার দিকে মধুখালীর নওপাড়া ইউনিয়নের আড়কান্দি সেতুর কাছে ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হতাহত ব্যক্তিরা ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর মাগুরা দলের সদস্য। তারা সকালে ফরিদপুরে সংগঠনটির একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসেছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে অ্যাম্বুলেন্সে মাগুরায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
এ দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন মাগুরা সদর উপজেলার মালিগ্রাম এলাকার মো. রাব্বি হাসান, ঐশি ও মো. আতিক।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এক কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহত বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন আরোহী নিহত হন। তারা হলেন সুমি বেগম (৩২), তার সাত বছরের ছেলে শাওন ও অটোরিকশাচালক। চালকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
করিমপুর হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বাসিন্দা সুমি বেগম সপরিবারে মাগুরায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ঢাকা ফেরার বাসের টিকিট না পেয়ে তারা অটোরিকশায় ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ফরিদপুরের দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে।
এতে অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুমি ও শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় বালুর নিচে চাপা পড়া অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় আহত আরও চারজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


