তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকা সাজেকের সড়কে অব্যাহত রয়েছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। শুক্রবার সকালে সাজেকের গঙ্গারামের উজো বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুড়ি পুড়িয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে দুই সংগঠনের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিচার্জ ও হামলায় শিশুসহ অন্তত ৯০ জন আহতের দাবি জানিয়েছেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলির খবর সত্য নয় দাবি করে শুক্রবার টাইমস অব বাংলাদেশকে মুঠোফোনে তিনি এসব তথ্য জানান।
সাজেকের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচি চলছে জানিয়ে বিজয় কান্তি চাকমার অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের দোকানপাট খোলা এবং এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে নিরাপত্তা বাহিনীরা বাধা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিচার্জে জীবন বাঁচাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরলে লাঠিচার্জে আহতের সংখ্যা ১০০ জন ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
ইউপিডিএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি বিষয়ে সংগঠনটির মূখ্য সংগঠক মাইকেল চাকমা ও মুখপাত্র অংগ্যা মারমা দাবি করেন, ইউপিডিএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোন প্রকার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি, বরং আন্দোলনকারীদের ওপর বেআইনিভাবে লাটিচার্জ, গুলিবর্ষণ, দোকানপাট ভাংচুর ও হামলা চালিয়েছে। এতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ আহত হয়েছে।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘গতকাল কর্মসূচির সমর্থনে নারী-পুরুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উজো বাজারসহ কয়েকটি স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে সেনাসদস্যদের অতর্কিত হামলা ও নির্বিচারে লাঠিপেটায় অনেকে আহত হন। সেনাসদস্যরা সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন।’
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের দাবি, অবরোধকারীদের হামলায় চার সেনা সদস্য ও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সাজেক থেকে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার সময় গঙ্গারামের উজোবাজারে সেনাবাহিনীর ও পর্যটকদের ওপর অবরোধকারীরা ইটপাটকেল ছুড়ে মারলে সেনা ও পুলিশ আহত হন বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব। বৃহস্পতিবার দুপুরের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও এতে কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’
সাজেকে কেন অবরোধের ডাক
সাজেকের মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকা থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, জেএসএসের সদস্যরা সাধারণ জনগণকে হুমকি না দেওয়া ও সেনা প্রশাসন কর্তৃক সাধারণ জনগণের ঘরবাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি না করা- তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অবরোধ শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। গত ৮ অক্টোবর প্রথম দফায় সাজেক জুড়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর কয়েক দফায় অবরোধ প্রত্যাহার এবং পুনর্বহাল করে সংগঠনটি। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার অবরোধের ডাক দেয় দুই সংগঠন।
অন্যদিকে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি দুই পার্বত্য জেলাতে শুক্রবার আধাবেলা অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে অবরোধের ডাক দেন সংগঠনটির সভাপতি ঊষাতন চাকমা।


