ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানির পর বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করে। এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে প্রসিকিউশন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের টকশোতে ফজলুর রহমান ট্রাইব্যুনাল ও রায় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর সূত্র ধরে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন আদালত অবমাননার অভিযোগ করে।
ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর তৃতীয় সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও দ্বিতীয় সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, এই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে পারে। এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে, এই বিচার করার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের আছে।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ফজলুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ও বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এ ধরনের মন্তব্য করার পরিণতি জানেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের গঠনপ্রক্রিয়া, বিচার নিয়ে প্রতিনিয়ত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাইব্যুনালকে অবমূল্যায়ন করে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে মনে হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালত অবমাননা করছেন।
বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আগামী রোববার আবার শুনানি হবে।
এর আগে ১৭ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। মামলার অপর আসামি, রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই রায়ের পর, ২৩ নভেম্বর একটি টিভির টকশোতে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ‘ট্রাইব্যুনালের বিচার মানি না’ বলে মন্তব্য করেন। উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জানে, জানবে না কেন? আমার ইউটিউব শোনেন, আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার আমি মানি না, ইউটিউবে বলেছি, টকশোতে বলেছি। যদি না বলে থাকি, এখন বললে আমার ভুল, মাফ চাইব, প্রতিদিন বলছি এই কোর্টের বিচার আমি মানি না। এই কোর্টের গঠন প্রক্রিয়া বলে, এই কোর্টে বিচার হতে পারে না।’


