প্রাণিদের মানবিক যত্ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘চিড়িয়াখানায় থাকা প্রাণীগুলোর যত্ন নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রাণীজগতে ইতিবাচক অবদান রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় চিড়িয়াখানা জাতির একটি অমূল্য সম্পদ, যেখানে দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আচরণের প্রতিফলন ঘটে। আমরা এমন একটি চিড়িয়াখানা গড়ে তুলতে চাই যা হবে সুন্দর, শিক্ষণীয় এবং বিনোদনমূলক।’
শনিবার দুপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দর্শনার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দর্শনার্থীরা অতিরিক্ত আনন্দে প্রাণীদের উত্যক্ত করে থাকেন। কোনো প্রাণীকে যেন উত্যক্ত করা না হয়, সে বিষয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি দর্শনার্থীদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আধুনিকায়ন ছাড়া চিড়িয়াখানার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ‘বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ অনুমোদন পেলে আধুনিকায়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত ৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে চিড়িয়াখানার জরুরি চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন চিড়িয়াখানায় নিশ্চিত করা জরুরি।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, অধিদপ্তরের পরিচালক মো. বয়জার রহমান এবং কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা।


