ঈদুল আজহার জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবার ১৯৯ বারের মতো ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে শোলাকিয়ায়।
দূর-দূরান্ত থেকে ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের মতো এবারও শোলাকিয়ার মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। জেলা প্রশাসন সেজন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।
তিনি জানান, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। ভৈরব থেকে ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর সাড়ে ৫টায় এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মুসল্লিদের অজুর জন্য মাঠসংলগ্ন পুকুর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য থাকবে মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ শহরের সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টায় নারীদের জন্য পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) দায়িত্ব পালন করবে। পুরো এলাকা থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির আওতায়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা কোনো ধরনের ধাতব বস্তু বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তল্লাশি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৮২৮ সালে যাত্রা শুরু করা শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদ জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে এই ঐতিহাসিক ঈদগাহে।


