প্রবারণা পূর্ণিমায় পাহাড়ে উড়বে ফানুস

প্রবারণা পূর্ণিমায় পাহাড়ে উড়বে ফানুস
প্রবরণা পূর্ণিমায় ফানুস উড়িয়ে করা হবে বিশেষ প্রার্থণা। ছবি: টাইমস আর্কাইভ
Advertisement
Advertisement

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা জনগোষ্ঠী সোমবার উদযাপন করতে যাচ্ছে আশ্বিনী পূর্ণিমা। প্রচলিত ভাষায় এই দিনকে ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ বলা হয়।

বুদ্ধ ধর্মীয় বর্ণনা মতে, পাহাড়ের গুহায় তিন মাস বর্ষাবাস শেষে এই তিথিতে ‘বোধিসত্ত্ব’ (চরম আধাত্মিক জ্ঞান) লাভ করেন মহামতি গৌতম। সত্যিকার অর্থে ‘বোধিসত্ত্ব’ অর্জিত হয়েছে কি না আত্মোপলব্ধী করতে তরবারি দিয়ে নিজ মাথার চুল কর্তন করে উর্ধ্বমুখে উড়িয়ে ছিলেন তিনি। তার বিশ্বাস ছিল, প্রকৃত অর্থে ‘বোধিসত্ত্ব’ লাভ হলে কর্তিত পবিত্র চুলগুলো মাটিতে নিপতিত হবে না, সেগুলো ভাসবে আকাশে।

আর তা-ই ঘটলো। ছুঁড়ে দেওয়া চুলগুলো ভাসতে ভাসতে ঠাঁই হলো চুলামণি মন্দিরে।

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (কেএসআই) এর অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক মংনুচিং মারমা বলেন, ‘ওই ঘটনা অনুসরণে সারা পৃথিবীর বুদ্ধ অনুসারীরা প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এদিনে ফানুস উড়িয়ে প্রদীপ পূজা পাঠানো হয় চুলামণি মন্দিরে রক্ষিত মহামতি বুদ্ধের চুল ধাতুর উদ্দেশে।’

তবে পার্বত্য বান্দরবানের মারমা সমাজ অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ‘ওয়াগ্যা পোয়ে:’ উৎসবের আয়োজন করে থাকে।

মনুচিং জানান, এই তিথিতে অন্যান্য ধর্মীয় আচারের মধ্যে রয়েছে — উপষদ গ্রহণ, বিহারে বিহারে বুদ্ধমূর্তি স্নান, ফানুস ওড়ানো, রথ টানা এবং নদীতে রথ ভাসিয়ে দেওয়া।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad