প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের প্রতিষ্ঠান ডিএল পেট্রোল পাম্পের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শিগগির আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এটা নিয়ে কাজ করছি। অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আমরা আশাবাদী, অচিরেই আসামিদের ধরে ফেলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগরে যে কয়টা ঘটনা ঘটেছে প্রায় সবগুলোই ডিবি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে উদঘাটন করেছে এবং আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা আশাবাদী, সোয়া কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদঘাটন করব এবং যারা অপরাধী তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’
এর আগে ৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামানোর পর তারা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএল প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত তাসীন আক্তার হক। তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে।
পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুদিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ফলে রোববার তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়।


