আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমরা সময়মতো, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে সমর্থন করি। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ তৈরি করবে।’
নতুন ভোটারদের নির্বাচনে সম্পৃক্ত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে মন্তব্য করে আসন্ন ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির শংসা করেন মিলার। তিনি বলেন, ‘এটি বহু বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে।’
এসময় ইইউ-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যালোচনায় অন্যতম বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোরও ঘোষণা দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। নির্বাচন কমিশনের পেশাদারত্ব ও সক্ষমতার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে ২০২৬ সালে যে নির্বাচন হবে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা খুব বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
তিনি জানান, গত সপ্তাহে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে একটি নির্বাচনি মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেখানে নির্বাচন এবং জুলাই চার্টার নিয়ে গণভোট-দুটিই একই দিনে নিরাপদে আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন।
মিলার এই প্রস্তুতিকে ‘পরিকল্পিত, প্রয়োজনীয় ও সুচিন্তিত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। বাংলাদেশ বড় দেশ, জনসংখ্যাও বিশাল, আর অনেকেই প্রথমবার ভোট দেবেন। তাই ভোটারদের নির্বাচনি বিধি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। সবার কাছে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে ভোট ও গণভোটে অংশ নেওয়ার নিয়ম-কানুন।’
প্রথমবারের ভোটারদের সম্পৃক্ত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাববোধে তারা কেউ আগে ভোট দেননি। কেউ আবার ভয় পেয়েছেন সম্ভাব্য সহিংসতার কারণে। ভোটের দিন যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য মানুষকে আগে থেকেই সব প্রক্রিয়া ভালোভাবে বুঝতে হবে।’ নির্বাচন কমিশনের ভোটের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকেও তিনি ‘সময়োপযোগী’ বলে মনে করেন।
মিলার বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমরা প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট। নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য জটিলতাগুলো ভেবে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়নি, আমরা তার অপেক্ষায় আছি এবং বহু বছরের মধ্যে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সহায়তা অব্যাহত রাখব।’
‘আমি খুবই আশাবাদী। দেশের সব পক্ষকেই এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বহু বছরের পর এটি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পিছিয়ে পড়া থেকে ফিরতে পারে, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করতে পারে এবং প্রমাণ করতে পারে যে তারা সঠিক ও পেশাদারভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম’, যোগ করেন মাইকেল মিলার।


