প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা টাইটানস স্পেসের প্রার্থী হলেন সারাহ করিম। মহাকাশচারী হওয়ার প্রক্রিয়ায় এই ঐতিহাসিক সুযোগ পাওয়ায় পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে আন্তর্জাতিক মহাকাশ মিশনে যোগ দেয়ার পথে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই সুযোগ পাওয়ার তথ্য জানান সারাহ করিম।
তিনি লিখেছেনন, ‘আমি সম্মানিত বোধ করছি, আমাকে টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের ২০২৬-২০৩০ ক্লাসের জন্য একজন মহাকাশচারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।’
সারাহ বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে একজন মহাকাশচারী হওয়ার পথে পা রাখছি। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে আমি মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী প্রথম ব্যক্তি হব।’
সারাহ নয় বছর বয়স থেকেই মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখেছেন। এবার তার সে স্বপ্নই বাস্তব হতে চলেছে। শিশুমনের সে বিশাল স্বপ্নের কথা মনে করে আবেগাপ্লুত সারা বলেন, ‘নয় বছরের ছোট্ট একটি মেয়ে যা কল্পনাও করতে পারে না তার চেয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছিল। বাবার সঙ্গে এই মেয়েটি মহাকাশচারী প্রথম নারী সুনিতা উইলিয়ামসকে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে দেখছিল। সে বিস্ময় তার ভেতরে এমন কিছুর জন্ম দিয়েছিল, যা আর কখনও ছেড়ে যায়নি। এখন সে স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।’
সারাহ জানান, ২০২৬ সালে তিনি মহাকাশচারী হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করবেন এবং ২০২৯ কিংবা ২০৩০ সালে পৃথিবীর ৩০০ কিলোমিটার উপরে টাইটানস জেনেসিস মহাকাশযানে একটি ঐতিহাসিক কক্ষপথ অভিযানের প্রস্তুতি নেবেন। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন নাসার অভিজ্ঞ মহাকাশচারী বিল ম্যাকআর্থার।
সারাহ করিম এই অর্জন প্রতিটি বাংলাদেশি মেয়ের জন্য উৎসর্গ করে বলেন, ‘এই মুহূর্ত আমার একার নয়। এটি প্রতিটি বাংলাদেশি মেয়ের জন্য যারা চুপচাপ স্বপ্ন দেখে। প্রতিটি শিশু যারা উপরে তাকায় এবং অবাক হয়। প্রতিটি মা যিনি তার কাঁধে একটি সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব বহন করেন।’
এ সময় স্বামী, পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী নীল এস. লাচম্যান এবং পুরো টাইটানস স্পেস এজেন্সিকে ধন্যবাদ জানান সারাহ।
টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ একটি বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা, যারা মহাকাশে বাণিজ্যিক পরিবহন ও কক্ষপথভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটি বিলাসবহুল মহাকাশ পর্যটন, চন্দ্র অভিযাত্রা এবং মহাকাশে বাণিজ্যিক ভ্রমণ ও সরকারি খাতকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং একধাপেই কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম স্পেসপ্লেন ও মহাকাশ স্টেশন তৈরি করছে।


