রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার নয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
একই সময়ে প্রথম আলোতে হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুই জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় একই আদালত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্টের পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন ও মো. কাইয়ুম হোসেন নয়ন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজশাহীর মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম (২২), ঢাকার জুলফিকার আলী সৌরভ (২২), ময়মনসিংহর মো: আলমাস আলী (২৯), নোয়াখালীর জুবায়ের হোসাইন (২১), সিলেটের আয়নুল হক কাশেমী (৩০), নোয়াখালীর আব্দুল রহমান পলাশ (৩০), রংপুরের মো. জান্নাতুল নাঈম (২১), শরীয়তপুরের ক্বারী মুয়াজবীন আঃ রহমান (৩৪) ও চাঁদপুরের মো. ফয়সাল আহমেদ (২৪), ইয়াসিন (৩৯) ও মো. হাসেম (২৪)।
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক মো. আশিক ইকবাল।
আবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ও বিশ্বস্ত সোর্সদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই আসামিদেরকে ডিবি, ডিএমপির সহায়তায় একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন। এমতাবস্থায় মামলার তদন্ত সমাপ্ত ও আসামিদের ঠিকানা যাচাই-বাছাই না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন উল্লেখ করা হয় আবেদনে।
এদিন শুনানিনে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আসামি জুবায়ের হোসেনের আইনজীবী বলেন, ‘জুবায়ের উসামা টিভির একজন সাংবাদিক এবং সে ওখানে লাইভ করছিলো। তাকে আসামি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে নির্দোষ।’
শুনানিতে আসামি ফয়সালের আইনজীবী বলেন, ‘ফয়সাল কারখানায় কাজ করে। তিনি পেশায় একজন দর্জি। তাকে পুলিশ ওসমান হাদির আসামি সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে। সে নির্দোষ। তার জামিন চাই।’
এদিকে জামিন চেয়ে আসামি জুলফিকার আলীর পক্ষে জানান, তার দোকান আছে ধোলাইখালে। এদিন তিনি কারওয়ান বাজার হয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। ওইদিন শুধু মাত্র তিনি ফেসবুকে একটা ছবি শেয়ার করেন। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা নেই।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি এ ধরনের ঘটনাকে সব সময় নিরুৎসাহিত করেছেন। কিন্তু বর্তমানে ঘটছে তার উলটো। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচারের জন্য আসামিদের জামিনের বিরোধী করছি।’
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে একদল হামলাকারী উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে ভবনে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ডেইলি স্টারের কর্মীদের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করাসহ ভবনের একাধিক তলায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সিসিটিভিসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নষ্ট করে।
এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ৩৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ লুট করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। হামলার সময় ৩০ জন কর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
পরে গত ২২ ডিসেম্বর ডেইলি স্টারের হেড অব অপারেশন মো. মিজানুর রহমান তেজগাঁও থানায় মামলাাটি করেন। মামলায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
এ ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলোর কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ে করা হয়। এই মামলায় গত সোমবার ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


