ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এ অধিবেশন বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
অধিবেশনের বিকালের অংশে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সকালের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন প্রাণবন্ত সংসদ আমি অতীতে খুব কমই দেখেছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে এ সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে, যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে তিনি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন।
অধিবেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে স্পিকার জানান, এবারে মোট ২৫টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিপরীতে ৯১টি বিল পাস হয়েছে এবং সর্বমোট ৯৪টি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটির ওপর আলোচনা হয়েছে। ৬৮ বিধিতে ৯টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি নোটিশের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। ৭১ বিধিতে গৃহীত ৩৮টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে এবং ৭১ ক বিধিতে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে ২০৭ বার।
তিনি বলেন, ১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিশের মধ্যে একটি গৃহীত হয়েছে। ২৬৬ বিধিতে তিনটি নোটিশ পাওয়া যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে দুটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯৩টি প্রশ্ন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার তারেক রহমানকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তার নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের প্রতি বৈশ্বিক মহলের এ স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে।’
একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সহনশীল আচরণ এবং গঠনমূলক আলোচনা সংসদীয় কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করেছে। নতুন ২২০ জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের অংশগ্রহণ মুগ্ধ করেছে।
শেষে স্পিকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জাতির শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।


