‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’র আত্মপ্রকাশ

‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’র আত্মপ্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’ নামের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠান থেকে নতুন প্ল্যাটফর্মটির সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

যেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর দিলারা চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব সাবেক কূটনীতিক সাকীব আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটির সদস্যরা হলেন মানবাধিকার ও সমাজকর্মী এবং গবেষক রুবি আমাতুল্লা, ব্রি জে (অব) মোহাম্মদ হাসান নাসির, উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুর, অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খান মুখলেছুর রহমান ও এক্টিভিস্ট মিনহাজুল আবেদীন।

নতুন সংগঠনটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা গোষ্ঠী নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের যেকোনো আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সকাল অনুষ্ঠিত সভার সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর দিলারা চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন ফাহিম মাশরুর।

অনুষ্ঠানের প্রথমপর্বে ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষ থেকে এর সদস্য রুবি আমাতুল্লাহ এই নতুন প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং এর উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকার সকলের কাছে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, আধিপত্যবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও রাষ্ট্রকে সচেতন করা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত প্রয়াস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নতুন এই প্ল্যাটফর্ম।

আহ্বায়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তিত আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা থেকে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, গণতান্ত্রিক আত্মশাসন এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী যেকোনো নাগরিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারবেন। এই প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট কোনো দল ও দেশের বিরুদ্ধে নয়। দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরের যেকোনো আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থাকবেন।’

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অংশ নেন।

এই পর্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী। আলোচনায় অংশ নেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জনতার দলের নেতা ডেল এইচ খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদার ভূঁইয়া ও রাজনীতিবিদ রিতা রহমান

মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন একদিকে যেমন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দলের বিরুদ্ধে ছিল। অন্যদিকে, তেমনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও ছিল। ভারত যদি শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত না থাকে, তাহলে প্রমাণ হবে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে তার আধিপত্যবাদী অবস্থান এখনো পরিবর্তন করেনি।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা না বাড়ালে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দেশে নিজস্ব ড্রোন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কাউকে আক্রমণ করা নয়।

দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি যদি দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব সবসময় ঝুঁকিতে থাকবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad