ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কড়া চাপে রাখে মরক্কো। তবে প্রথমার্ধের শেষে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে সমতায় শেষ হয়, কারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এক চমৎকার মুহূর্তে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
মরক্কো ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। মোহামেদ ওয়াহবির দল মূলত মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ চালাচ্ছিল এবং বারবার ব্রাজিলের ফুল-ব্যাকদের রক্ষণ ভেদ করছিল–বিশেষ করে রজার ইবানেজ মরক্কোর গতি ও মুভমেন্টের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন।
ম্যাচের শুরুর দিকে ব্রাজিল তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। ১৪তম মিনিটে তারা প্রথম একটি পরিষ্কার সুযোগ পায়, যখন ভিনিসিয়াস জুনিয়র বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন এবং ইগর থিয়াগোর উদ্দেশে ক্রস বাড়ান, কিন্তু এই স্ট্রাইকার হেড থেকে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।
এর কিছুক্ষণ পরেই মরক্কোর লাগাতার চাপ ফলপ্রসূ হয়। ব্রাহিম দিয়াজের একটি নিখুঁত পাসে ব্রাজিলের দুই সেন্ট্রাল ব্যাক আলাদা হয়ে যান এবং ২১ মিনিটে ইসমায়েল সাইবারি অত্যন্ত শান্ত মাথায় আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে নেন।
মরক্কো মাঝমাঠ দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণ চালাচ্ছিল এবং আশরাফ হাকিমি রাইট-ব্যাক পজিশন থেকে ক্রমাগত প্রতি-আক্রমণ পরিচালনায় সাহায্য করছিলেন। অন্যদিকে ব্রাজিল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বেশ বেগ পাচ্ছিল। ব্রুনো গিমারায়েস একাই লড়াই করলেও ক্যাসেমিরো এবং লুকাস পাকেতা ম্যাচে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারছিলেন না। রাফিনহাও খেলার জন্য খুব একটা ফাঁকা জায়গা পাচ্ছিলেন না।
তা সত্ত্বেও ব্রাজিল তাদের তারকা খেলোয়াড়ের একক দক্ষতায় ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায়। ৩২ মিনিটে ডি-বক্সের লাইনের কাছাকাছি কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে মরক্কোর রক্ষণভাগকে শাস্তি দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ম্যাচের ধারার বিপরীতে এক দুর্দান্ত শটে বল জালের ওপরের অংশে জড়িয়ে দিয়ে তিনি খেলায় সমতা ফেরান।
ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়াসের ৫০তম ম্যাচ। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চেনা ছন্দেই ব্রাজিলের হয়ে এই গোলটি করেন তিনি।


