প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ই–অরেঞ্জ ডটশপের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান সুমনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে করা এ মামলার আসামিরা হলেন–ই–অরেঞ্জ ডটশপের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া মেহজাবিন, ই–অরেঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা ও পরিচালক মাসুকুর রহমান সুমন, পৃষ্ঠপোষক শেখ সোহেল রানা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমানুল্লাহ চৌধুরী এবং পরিচালক জায়েদুল ফিরোজ ও নাজনিন নাহার বিথী।
বাদীপক্ষের আইনজীবী গাজী হাসান মাহমুদ বলেন, মামলা দায়েরের পর আদালত আসামিদের হাজির হতে সমন জারি করে৷ এরপরও তারা হাজির হননি। এরপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, সম্পত্তি ক্রোক ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
আসামি আমানুল্লাহ আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেও অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক গাজী ফিরোজ কায়ছার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ই–অরেঞ্জ শপের কর্মকর্তারা স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলোভিত করেন। প্রলোভনের শিকার হয়ে তিনি ২০২১ সালের ২৩ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপ কিনতে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আসামিদের প্রতিষ্ঠানে পরিশোধ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকলেও তারা সরবরাহ করেননি।
বাদীর অভিযোগ, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও আসামিরা পণ্য সরবরাহ না করায় ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর ই–অরেঞ্জের অফিসে গেলে টাকা না দিয়ে ফিরোজ কায়ছারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি মামলায় উল্লেখ করেন।


