কারাফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো তাকে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবারের দাবি প্যারোলে আবেদন করার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তবে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, সাদ্দাম যশোর কারাগারে বন্দী আছেন। সাদ্দামের পরিবার আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, এ ধরনের তথ্য মিথ্যা। কারণ যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
এদিকে যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষ প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করে না । এটা সম্পূর্ণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এক্তিয়ারাধীন। কারা কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র এটাকে ইমপ্লিমেন্ট বা বাস্তবায়ন করে মাত্র।
এদিকে আবেদনের একটি কপি টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, আবেদনটি বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আসামি যে জেলা কারাগারে বন্দী থাকেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য সেই জেলার প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন দিতে হবে। কিন্তু সাদ্দামের পরিবারের পক্ষ থেকে তা করা হয়নি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয়জন সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্ত্রী-সন্তানের মরদেরহ দেখতে সাদ্দামকে পাঁচ মিনিটের মতো সময় দেওয়া হয়।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি এবং প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করি। কিন্তু তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তি না পাওয়ায় আমরা সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ নিয়ে অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দামের সঙ্গে এমন আচরণ না করে মানবিক দিক বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।’
সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করে বলেন, ‘সে (সাদ্দাম) তো খুনি না। রাজনৈতিক মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়ল না। তাকে কিছুক্ষণ জামিন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হলো না।’
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর পড়েছিল ৯ মাসের শিশু নাজিম।
পুলিশ ও সাদ্দামের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
পরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সাদ্দামের স্বজনরা কারাফটকে আসেন। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘কারাফটকে লাশ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দিই। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি স্বজনরা কারাফটকে আনেন, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে দেখতে দিই।’


