বায়ুদূষণের তীব্রতায় বিপর্যস্ত রাজধানী ঢাকা। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকাগুলোর মধ্যে টানা তিনদিন শীর্ষে থাকার পর রোববার ঢাকার অবস্থান তৃতীয়।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, রোববার ঢাকার বায়ুমান ২০৭। সাধারণত, একিউআই মান অনুযায়ী, ২০০-৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।
আজ ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৪ মাইক্রোগ্রাম।
ঢাকার মধ্যে সাভার, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, টঙ্গী, পল্টনসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বায়ু দূষণমাত্রা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক পরিবেশ গবেষণা সংস্থা আইকিউএয়ার।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোববার বিশ্বের ১২৪ টি শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর আধিক্য দেখা গেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও দ্বিতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোর। দিল্লিতে একিউআই স্কোর ৫৩৫, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ের দূষণ নির্দেশ করে।
লাহোরের একিআউ ৩৩১। পাকিস্তানের করাচির স্কোর ২২৩, ভারতের কলকাতার ২২০ এবং চীনের চেংদুর একিউআই ২০৯।

এর আগে, শনিবার ২৮৪ একিউআই নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর শীর্ষে ছিল ঢাকা।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর এই তালিকা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সংকটেরই প্রতিফলন। শিল্প দূষণ, যানবাহনের ধোঁয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
উচ্চমাত্রার নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইড শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এই মাত্রার দূষণে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন এবং সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শ্বাসকষ্ট ও গলা জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল সীমিত রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মাস্ক ব্যবহার, খোলা জায়গায় শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বায়ু দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


