পোলাও চালের সুগন্ধ ভোক্তাদের হতবাক করছে। দাম বেড়ে ছাড়িয়েছে ২০০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, গত ছয় মাসে কেজিতে বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। গত এক সপ্তাহে বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। বন্যা ও বৃষ্টিতে খেত নষ্ট হওয়ায় কাঁচামরিচের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ঢাকার বাজারে দাম ছাড়িয়েছে ৪০০ টাকা। সেই সঙ্গে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া কঠিন।
বাজারে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল কেজিপ্রতি ২১০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা চালের দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। কারওয়ান বাজারের মেসার্স রাইস মিলের চাল ব্যবসায়ী মো. জামিল হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, তিন মাসে ৫০ কেজির বস্তার দাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২০০ টাকা। এক সপ্তাহে বেড়েছে ১ হাজার টাকা।
তেজগাঁওয়ের চাঁদপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া জানান, মিলগেটে প্রতি কেজি চাল কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২০৪ টাকায়। জুনে তা ছিল ১৫৬ থেকে ১৬৩ টাকা। সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে দাম বাড়ছে।
বাচ্চু মিয়া বলেন, বাজার ১০ থেকে ১২টি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। তারা আগে ধান কিনে মজুত করে কৃত্রিমসংকট তৈরি করে। মিল মালিক ও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দাবি, সুগন্ধি চাল রপ্তানির খবরের কারণে দাম বেড়েছে।
জুন ও জুলাই মাসে ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাল রপ্তানির সময় দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর দাম বাড়ার গতি তীব্র হয়।
মেরুল বাড্ডা বাজার থেকে ১৯০ টাকায় এক কেজি চাল কিনে রফিক উদ্দিন বলেন, আগে শুনতাম ইলিশ মাছ রপ্তানি হয় বলে দাম বেশি থাকে। এখন পোলাওয়ের চালও রপ্তানি শুরু হয়েছে।
ভোগাচ্ছে সবজি
সবজি ও কাঁচামরিচের দাম মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ পৌঁছেছে ৪০০ টাকা কেজিতে।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. রামিম জানান, ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা এবং ১০০ গ্রাম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রাম বা এক কেজি নিলে ২০ থেকে ৩০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়। মেরুল বাড্ডার বিক্রেতা সুধির মিয়া জানান, এক সপ্তাহে দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, তার আগের সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
মালিবাগ বাজারে গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। বিক্রেতা মো. ইমন জানান, দুটি ছাড়া সবজি ১০০ টাকার নিচে নেই। মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপের দাম কম। বরবটি, কচু, পটল, ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৮০ টাকায়। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও তা ছিল ২০ টাকার মধ্যে।
মালিবাগে বাজার করতে আসা আশফাক ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি নেই, অথচ বেগুন দেড়শ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা।
মেরুল বাড্ডার সুমনা বেগম বলেন, এখন সবজি কিনতে ব্যাগ ভর্তি টাকা আনতে হয়। আল শাফী মাহমুদ ৩০০ টাকায় পেঁপে, চালকুমড়া ও চিচিঙ্গা কিনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ডিম ও মাছের দাম বেড়েছে। ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়।
ভারী বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি
বাজারের এই পরিস্থিতির পেছনে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা। ফরিদপুরের মধুখালীতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হলেও ভারী বৃষ্টিতে রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী বলেন, জেলাজুড়ে ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। মধুখালীতেই ২ হাজার ৭২০ হেক্টর। বৃষ্টির কারণে তিন-চতুর্থাংশ গাছ নষ্ট হয়েছে।
পাবনার কৃষক রাতুল আহমেদ জানান, দুই একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। অর্ধেক বৃষ্টিতে পচে গেছে। ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পাবনা ও ফরিদপুর থেকে সবজির ট্রাকচালক তরিকুল ইসলাম জানান, মোকামে বেশি দামে কেনায় ঢাকায় ভালো মানের পেঁয়াজ ৬৫ টাকার নিচে বিক্রি করা যাচ্ছে না।


