গত শতাব্দীর শেষের দিকে চলচ্চিত্রে অভিষেক পূর্ণিমার। অনন্য সুন্দরী নায়িকা শাবনূর, মৌসুমী, পপিদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। করোনার পরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের চেয়ে তার উপস্থাপনায় ব্যস্ততা বাড়ে। উপস্থাপক হিসেবে তিনি বেশ কিছু টেলিভিশন শো, অ্যাওয়ার্ড শো উপস্থাপনা করেন। মাঝে নায়ক ফেরদৌসের সঙ্গে তার উপস্থাপনা জুটি গড়ে উঠেছিল।
নানবিধ কারণে তিনি বছর দেড়েকের মত একটু আড়ালে আবডালে ছিলেন। তবে তিনি সম্প্রতি আবার কাজে ফিরেছেন। সম্প্রতি সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত পরিচালক গাজী মাহবুব নির্মাণ করেছেন এটি।
এফডিসিতে দৃশ্য ধারণ দিয়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে শুটিং। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
তবে ‘হৃদয়ের কথা’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘শুভা’-এর মতো দর্শক ও সমালোচক নন্দিত ছবির নায়িকা কি অভিনয় ছাড়া বসে থাকতে পারেন? তার অভিনীত সবশেষ ছবি ‘আহারে জীবন’ মুক্তি পেয়েছে ২০২৪-এ। তিনি আবার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চান বলে জানালেন।
টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে এক নাতিদীর্ঘ ফোনালাপে এ জনপ্রিয় তারকা বলেন, ‘আমি তো অভিনয়ে ফিরতে চাই। অভিনয়েরই মানুষ আমি। উপযুক্ত গল্প, চরিত্র পেলে কেনো করবো না?’
তিন দশকের ক্যারিয়ারের এ প্রান্তে এসে পূর্ণিমা এমন কোনো চরিত্র বা গল্পে কাজ করতে চান না যা তার বয়স বা ইমেজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, ‘আমি গ্ল্যামারাস নায়িকার চেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে বেশি আগ্রহী।’
ফেসবুকে তার ১ কোটির অধিক ফলোয়ার রয়েছে। তার মানে এতদিন পরে এসেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু এরপরও বর্তমান সময়ের পরিচালকদের সঙ্গে তার ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন। ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় নাটকেও কাজ করেছেন। তবে নাটকের অনেক প্রস্তাব পেলেও না করার পিছনে দুটি কারণ জানালেন— ‘আমার মেয়ে গ্রেড ফাইভে পড়ে। শুটিংয়ের সময় তার স্কুলের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। যার কারণে শিডিউল মেলানো যায় না। আরেকটা কারণ বলবো, এমন কোনো নাটকে এখন কাজ করতে চাই না, যা মানসম্পন্ন হবে না।’
উপস্থাপনার অফার পান না? ‘পাই। করতে ইচ্ছে করে না। সবধরনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে চাই না’,–বলেন পূর্ণিমা।
আরিফিন শুভর সঙ্গে তার করা ‘ছায়া-ছবি’র গানগুলো অনলাইনে প্রকাশের পর জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ছবিটি আর মুক্তি পায়নি। একই অবস্থা কি হতে হচ্ছে নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল পরিচালিত তাদের জুটির ‘জ্যাম’-এর ক্ষেত্রে? এটিও প্রায় পাঁচ বছর ধরে আটকে আছে। এ ছবি কবে আসবে তা জানেন না পূর্ণিমা। তবে তিনি বেছে বেছে ভালো নাটক কিংবা সিনেমা— যেটাই হোক অভিনয়ে নিয়মিত হতে চান।


