ভারতের পুশইন কার্যক্রম ও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী শুক্রবার দেশের সব সীমান্তবর্তী জেলা ও সীমান্ত পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া খুন, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় তিনি বলেন, সীমান্তে চলমান হত্যাকাণ্ড ও পুশইনের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক। প্রতিবেশী দেশ ভারত আন্তর্জাতিক রীতি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তার দাবি, গত তিন মাসে ৫০টির বেশি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে এবং গত ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কোনো সভ্য রাষ্ট্রে সীমান্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী। তিনি সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিরোধী দলগুলো আপস করবে না। সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্ত এলাকায় গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


