বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে যান। তার উপস্থিতিতে খালেদা জিয়ার সবশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনায় মেডিকেল বোর্ডের সভা বসবে বলে জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল।
এর আগে, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩০২ ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন জুবাইদা রহমান।
বিমান বন্দরে জুবাইদা রহমানকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক রিচার্ড বেলি, জুবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান ও তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর সৈয়দ শফিউজ্জামান ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম শামস, শারমীন আখতার ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর মঈনুল হোসেন।
জুবাইদা রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আতিকুর রহমান রুমন। সেখানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কাতারের রাজপরিবারের দেওয়া রয়্যাল অ্যাম্বুলেন্সে বেগম জিয়ার সঙ্গে তার লন্ডনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে হিথরো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওনা হন জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতেই কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় অবতরণের কথা থাকলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘তারা (কাতার) বিকল্প কিছু করার চিন্তা করছে। সে ক্ষেত্রে ভোরের দিকে যাত্রা করা যাচ্ছে না। বিকল্প নিশ্চিত হলেই দিনের যেকোনো সময়ে বেগম জিয়াকে নিয়ে লন্ডন রওনা করা হবে।’
গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
৩০ নভেম্বর ভোরের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা এখনো খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।


