ঝড়ে হাঁড়িভাঙ্গা ঝরল ৩০ শতাংশ, লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

ঝড়ে হাঁড়িভাঙ্গা ঝরল ৩০ শতাংশ, লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আমের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব। আটি আসার ঠিক আগমুহূর্তে ঝড়ে অন্তত ৩০ শতাংশ গুটি ঝরে পড়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন বাগান মালিক ও লিজ নেওয়া চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আমের এই ‘পাতলা’ হয়ে যাওয়া ফলনের গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিলের ঝড়ো হাওয়ায় রংপুরের পদাগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও আশপাশের এলাকার বাগানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রচুর আম মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

মিঠাপুকুরের তেকানী গ্রামের চাষি আমজাদ হোসেন জানান, ফলন ভালো হলেও ঝড়ে প্রায় অর্ধেক গুটি পড়ে গেছে। ন্যায্য দাম না পেলে খরচ তোলা কঠিন হবে।

একই আক্ষেপ মন্ডলপাড়ার চাষি আলামিন ও পাইকানপাড়ার মিজানুর রহমানের। তাদের মতে, কীটনাশক ও সারের চড়া দামের কারণে এবার বাগানে খরচ বেশি হয়েছে। এখন ৩০ ভাগ আম নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।

ক্ষুদ্র চাষি সামছুল হক ও বাগান ইজারাদার মমদেল হোসেনও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

হাঁড়িভাঙ্গা আম কেবল ঝরে যায়নি, শিলাবৃষ্টির আঘাতে গাছে থাকা অনেক আম ফেটে গেছে বা দাগ হয়েছে। অনলাইনে আম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সতেজ টিম’-এর প্রধান আসাদুজ্জামান রিফাত জানান, আটি না আসায় ঝরে পড়া আমগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবার বাজারে আমের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে।

ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। রংপুর জোনের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাষিরা সাধারণত আম থিনিং বা পাতলা করতে চান না। প্রকৃতি ঝড়ের মাধ্যমে সেই কাজটিই করে দিয়েছে। এর ফলে গাছে থাকা আমের আকার বড় ও মানসম্মত হবে। আমরা যদি অবশিষ্ট গুটিগুলোকে রক্ষা করতে পারি, তবে ফলনে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের পরিদর্শক মোস্তাফিজার রহমান জানান, নতুন করে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

রংপুর আঞ্চলিক খামার বাড়ির তথ্য অনুযায়ী, এবার এই অঞ্চলে ৩ হাজার হেক্টর জমি থেকে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে চাষিদের আশঙ্কা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad