পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে তারা শূন্যরেখায় ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষ কৃষি জমির আইলে পানির মধ্যে বসে অপেক্ষা করছেন। এদের মধ্যে তিন শিশু, দুইজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছেন।
এর আগে, শুক্রবার ভোরে হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে ওই ১০ জনকে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার পর ভারতের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন তারা।
শুক্রবার দুই দফায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেহেতু তারা ভারত থেকে এসে ভারতীয় শূন্যরেখা অবস্থান করছেন তাই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আজ দুপুরে বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বড়বাড়ি সীমান্ত গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ‘১০ জনকে পুশইনের ঘটনার পরপরই আমরা তাদের বাধা দিই৷ তবে বিএসএফ যে কাজটি করেছে এটি ঠিক করেনি। শিশু নারী ও পুরুষরা অনেক কষ্ট করছে। চারপাশে অথৈ পানি, মধ্যখানে একটি আইলের মধ্যে তারা কোনো রকম বসে দিনরাত পার করছে। আমরা আশা করব বিএসএফ তাদের নিয়ে যাবে।
আবু সুফিয়ান নামে আরেক যুবক বলেন, ১০ জন মানুষ মানবতার জীবন যাপন করছে। প্রায় দুই দিন হয়ে গেল কিন্তু কোনো সূরাহা হচ্ছে না। আমরা এলাকাবাসী চাই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হোক।
হাড়িবভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ ই-নুরে আলম জানান, বিএসএফ যে কাজটি করেছে এটি অমানবিক। আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে, নিয়ম রয়েছে, তাই বলে এইভাবে বিএসএফ ১০ জন মানুষকে পুশইন করতে পারে না। মানুষগুলো অনেক কষ্টে রয়েছে শুক্রবার থেকে। পুশইন ঠেকাতে আমরা স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তৎপর আছি।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির বাধার ফলে পুশইন হওয়া ১০ ভারতীয় শূন্যরেখায় অবস্থান করেছেন। অনুপ্রবেশ ও পুশইন রোধে আমাদের সীমান্তে টহল জোরদার রয়েছে।


