বিডিআর হাসপাতালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন মো. নজরুল ইসলাম। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিজ চোখে দেখেছিলেন তিনি। এ কারণে নজরুলকে গুমের পর হত্যা করেছেন র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান। আদালতে এমন দাবি করেছেন নজরুলের স্ত্রী মুন্নী আক্তার।
পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের এই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে।
মুন্নী আক্তার জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন প্রাণভয়ে পিলখানার দেয়াল টপকে পালিয়ে যান তার স্বামী। কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর স্বামীর সঙ্গে ফোনে আমার যোগাযোগ হয়। তখন আমরা পিলখানার ১ নম্বর গেটের সামনে একটি বাসায় থাকতাম। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পোস্তগোলায় আমি আমার কাকির বাসায় চলে যাই। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে স্বামীর কাছে যাই। কিছুদিন থাকার পর চলে যাই ঝালকাঠি বাবার বাড়িতে।’
অভিযোগ করে মুন্নী বলেন, ‘আমার স্বামী ২০১০ সালের ১৫ মার্চ গুম হন। এ ঘটনায় অপহরণের মামলাও করা হয়।’ সাক্ষী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিজ চোখে দেখার কারণে আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে। জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করা হয়। জেরা অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১০৪ জনকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের মতে, ২০০৯-২০১৬ সময়কালে জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং এডিজি (অপস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে অসংখ্য বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, অগণিত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সরাসরি নির্দেশ, অনুমোদনক্রমে, জ্ঞাতসারে তার বিশ্বস্ত র্যাব সদস্যরা সংঘটন করত।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর অবস্থায় র্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর থেকে আসামি জিয়াউল আহসান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের আগ পর্যন্ত তাকে কখনোই সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি। হাসিনার পুরো আমলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী বা সংস্থায় কাজ করেছেন।
পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে এবং কোনো ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই আসামি জিয়াউল মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি পান, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পেশাদারিত্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।


